লিওনেল মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও মেসির গোল ও অ্যাসিস্টে ম্যাচে ফেরে চ্যাম্পিয়নরা। আর এতেই দেশজুড়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনা দলের এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় রাতভর উল্লাস করতে দেখা যায় সমর্থকদের।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের শহীদ হাসান চত্বর (চৌরাস্তার মোড়), কোর্ট মোড়, একাডেমি মোড়সহ রাতভর পুরো শহরজুড়ে আনন্দ-উল্লাস আর মহড়ায় মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। জেলা শহরের সিনেমা হল রোডের পুরাতন সাহিত্য পরিষদ চত্বরে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হন শত শত ফুটবলপ্রেমী। তবে খেলা শুরুর আগে বৃষ্টির হওয়ার আশঙ্কায় বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে বড় পর্দা চালু হলেও সম্প্রচারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কয়েক মিনিট খেলা দেখতে না পেরে দর্শকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বড় পর্দায় খেলা শুরু হলে উত্তেজনায় ভরপুর হয়ে উঠে পুরাতন সাহিত্য পরিষদ চত্বর। এছাড়া শহরের অলিতে-গলিতে প্রজেক্টর টাঙিয়ে মানুষ খেলা উপভোগ করেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। আনন্দে নেচে-গেয়ে, স্লোগান দিয়ে এবং আতশবাজি ফুটিয়ে বিজয় উদযাপন করেন তারা। শহীদ হাসান চত্বর ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আর্জেন্টিনা সমর্থক শামসুজ্জোহা রানা বলেন, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। আমরা জিতে সেটাই প্রমাণ করলাম।
বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি বলেন, মিশর খুব ভালো খেলেছে। তবে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত নার্ভের কঠিন পরীক্ষা দিয়ে তিন গোল করে ম্যাচ জিতেছে। এমন জয় সত্যিই উপভোগ্য।

এদিকে ফেনী শহরের জেল রোড এলাকা যেন রূপ নেয় এক টুকরো বুয়েনস এইরেসে। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন ফেনীর শত শত ফুটবলপ্রেমী। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ‘মেসি... মেসি... মেসি...’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো শহর।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ফেনী শহরের জেল রোড মোড়ে জায়ান্ট স্ক্রিন প্রাঙ্গণে এই অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। খেলা শুরুর আগে থেকেই ফেনী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে সমর্থকরা আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে এবং প্লাকার্ড-পতাকা হাতে জড়ো হতে থাকেন।
এই সড়কটিতে ম্যাচটি ঘিরে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। বিশালাকার জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে খেলা দেখতে সন্ধ্যা থেকেই জড়ো হতে থাকেন ফেনী শহর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার ফুটবলপ্রেমীরা। খেলা শুরুর আগেই উৎসবের শহরে পরিণত হয় মাস্টারপাড়া ও পুরাতন কারাগার এলাকা। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে এবং গালে-কপালে পতাকার রং মেখে হাজির হন সব বয়সিরা। বিশেষ করে তরুণদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

খেলা দেখতে আসা তরুণ সমর্থক মুস্তাফিজ মুরাদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মিশর অসাধারণ খেলেছে, সত্যি বলতে বুক কাঁপছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা প্রমাণ করল কেন তারা বিশ্বসেরা। মেসি মাঠে থাকা মানেই এক অন্যরকম জাদু। ফেনীর এই উন্মাদনা আজীবন মনে থাকবে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর গভীর রাতেও ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, মিজান রোড ও লস্করহাট এলাকায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী ফৌজুল আজিম বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় সমর্থকদের এই বাঁধভাঙা বিজয়োল্লাস।

রাজবাড়ীতে প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় একসঙ্গে উপভোগ করতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বন্ধুদের সহযোগিতায় জেলা শহরের আজাদী ময়দানে বিশালাকারের ডিজিটাল এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেন। ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয় এই এলইডি স্ক্রিনে। প্রথমবারের মতো ডিজিটাল এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখার সুযোগ পেয়ে হাজির জন শত শত ফুটবলপ্রেমী। এরমধ্যে প্রিয়দল জয়ে আনন্দে-উল্লাসে ফেটে পড়ন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা।
এছাড়া প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এখন থেকে বিশ্বকাপের পরবর্তী খেলাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে দেখার সুযোগ পাবেন তারা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে বড় পর্দায় আয়োজিত আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচ দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উৎসাহী শিক্ষার্থীরা ভিড় জমান। ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ছাতা মাথায় দিয়ে শিক্ষার্থীরা খেলা উপভোগ করেন। প্রিয় দলের সমর্থনে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো গ্রাউন্ড। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা ছিল চারপাশ।
এফএ/এএসএম








