শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুটা ছিল হতাশার। মেসির পেনাল্টি মিস হওয়ার পর কালো মেঘ ভর করে দলটির আকাশে। যদিও এই গল্পের শেষটা সবাইকে চমকে দিয়েছে। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতেছে ৩-২ গোলে। মেসি নিজে এই ৩ গোলের মধ্যে একটি করেছেন, আরেকটি করিয়েছেন। আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনে উজ্জীবিত দলটির সমর্থকরা।

তবে ম্যাচ রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে পরাজিত দল মিসর। দলটির কোচ হোসাম হাসানের দাবি—৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে। আবার আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে এসব বিষয় নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। এবার ঢাকাই সিনেমার নায়ক ওমর সানী আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ‘নির্লজ্জ’ বললেন, পাশাপাশি ফিফার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।  

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ওমর সানী। কথার শুরুতে এ নায়ক বলেন, “ফিল্মে আসার আগে আমি বেশ ভালো ফুটবল খেলতাম। যদিও সে অব্দি যেতে পারিনি, তবে ফুটবলটা ভালো বুঝি। ১০/১২টি বিশ্বকাপ দেখেছি, এখনো বেঁচে আছি। ফুটবলের সৌন্দর্য দেখেই কিন্তু পৃথিবীর মানুষ এটাকে ‘এক নম্বর খেলা’ বলে থাকেন। এ কথার সঙ্গে আমিও একমত।” 

ফিফার কর্মকাণ্ডকে ‘পৈশাচিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ওমর সানী। তার ভাষায়—“ফিফা যেটা করছে বা করার চেষ্টা করছে, সেটা অমানবিক, পৈশাচিক। ইরান-মিসরের বিরুদ্ধে যে অন্যায়-অবিচার, সেটা খুবই দুঃখজনক। ইসলাম বলে একটা কথা আছে, এই বিষয়ে নাইবা বললাম।”  

আর্জেন্টিনার ভক্তদের ‘নির্লজ্জ’ তকমা দিয়ে ওমর সানী বলেন, “আমি ব্রাজিলের সমর্থক। ব্রাজিল হেরেছে, এটাকে কোনো অন্যায় বলছি না। ব্রাজিল খারাপ খেলেছে, ভুল করেছে—সুতরাং এটা তাদের প্রাপ্য ছিল। আমি কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আর্জেন্টিরার নির্লজ্জ কিছু ভক্ত, আমি তাদের নির্লজ্জ বলছি, কিছু মনে করবেন না। আর্জেন্টিনার নির্লজ্জ কিছু ভক্ত বিজয় উল্লাস করছে, এভাবে লেংটা হয়ে উল্লাস করার কোনো কারণ দেখি না।” 

একসময় ফিফা ভেঙে যাবে, মানুষ সংগঠনটিকে ছিঁড়ে খাবে বলে মত ওমর সানীর। ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ফিফা প্রেসিডেন্ট যা শুরু করেছে, একটা সময় প্রশ্নের মুখে পড়ে এই সংগঠন ভাগ হয়ে যাবে! সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি। হায়েনারা যেরকম ছিঁড়ে খায়, একসময় ফিফাকেও মানুষ ছিঁড়েছিঁড়ে খাবে। এটাই বাস্তবতা। যেটা হয়েছে সেটা অন্যায় হয়েছে। এটা অন্যায় হয়েছে কি না তা নিজেরা চিন্তা করে দেখুন।”