যেকোনো শিল্পকারখানার ‘সচলতা’ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু উৎপাদনই নয়, থেমে যায় শ্রমজীবী মানুষের জীবনের গতিপথও। দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি শিল্প। শিল্প সচল থাকলে কর্মসংস্থান বাড়ে, রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রের রাজস্বও বাড়ে। কিন্তু যখন একের পর এক কারখানার গেট বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সংকটই নয়; তা পুরো দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনিসংকেত।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দেশের ৮টি শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। সংবাদটি গভীর উদ্বেগের। প্রতিবেদনে ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার মূল কারণ হিসেবে ক্রয় আদেশ বা ওয়ার্ক অর্ডারের সংকট এবং মালিক পক্ষের আর্থিক দুরবস্থা বা মূলধনের অভাবকে তুলে ধরা হয়েছে। সংখ্যাগুলো নিছক পরিসংখ্যান নয়, পেছনে রয়েছে হাজারো শ্রমিকের বেকারত্ব, অসংখ্য পরিবারের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার এক কঠিন বাস্তবতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড আর্থিক সংকটসহ বিবিধ কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৭০০ শ্রমিকসহ প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১৬ জুন বন্ধ হয়ে যায়। শিল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, ৪৫৭ কারখানার মধ্যে ২০৫টি বন্ধ হয়েছে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাবে। ১৯০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে মালিকপক্ষের আর্থিক সংকটে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়েছে ১১টি কারখানা। রাজনৈতিক, ব্যাংক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামালের অভাব ও ফ্যাক্টরি স্থানান্তরসহ অন্যান্য কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৫১টি কারখানা।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে মোট কারখানার সংখ্যা ১০ হাজার ২৩৮টি। বন্ধের তালিকায় দেখা যায়, আশুলিয়ায় ১ হাজার ৭০৫ কারখানার মধ্যে বন্ধ হয়েছে ১২৪টি। গাজীপুরে ২ হাজার ৭৬৪ কারখানার মধ্যে বন্ধ হয়েছে ১৫৫টি। চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭৭৮ কারখানার মধ্যে ১১৯টি বন্ধ। নারায়ণগঞ্জে ১ হাজার ৯৬০ কারখানার মধ্যে বন্ধ ৩৮টি। ময়মনসিংহে ২৯৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ আটটি। খুলনায় ৬৭৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ ছয়টি। কুমিল্লায় ৩১৭ কারখানার মধ্যে বন্ধ সাতটি কারখানা। কারখানাগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সদস্য ১০৮টি। বিকেএমইএ সদস্য কারখানার সংখ্যা ৩৫। তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সুতা-কাপড় উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বিটিএমএ সদস্য ৮টি। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন বন্ধ কারখানা রয়েছে ১৯টি এবং সংগঠনের বাইরে থাকা কারখানার সংখ্যা ২৮৭।

মনে রাখা দরকার, শিল্পের চিমনি থেকে ধোঁয়া ওঠা মানে শুধু উৎপাদন নয়; এর অর্থ মানুষের ঘরে রান্নার চুলা জ্বলা, শিশুর স্কুলে যাওয়া, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি, ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকা। তাই কারখানার তালাবদ্ধ গেট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। এখন প্রশ্ন একটাইÑ আমরা কি অপেক্ষা করব আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার, নাকি শিগগির সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে শিল্পকে বাঁচানোর? আশা করি, সদাশয় সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নজর দিবেন।

অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ করা হয়েছে শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিস দিয়ে। কিন্তু এখন সংকট তৈরি হচ্ছে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ বকেয়া রেখে। এভাবে বন্ধের প্রক্রিয়া আইনগত হলেও অনেক ক্ষেত্রে বেতন, সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা হয় না। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। এমনও দেখা যায়, কারখানা বন্ধের বিষয়টি আগে থেকে অবহিত না করে হঠাৎ শ্রমিক অসন্তোষ তথা পরিস্থিতি জটিল করে তোলা হয়। তবে আশার কথা, সরকার এরই মধ্যে বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। বিজিএমইএ-এর তথ্যানুযায়ী, এরই মধ্যে ৩২২ কারখানা এ প্রণোদনা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে ১৯৯টি পুরোপুরি বন্ধ, বাকি ১২৩টি আংশিকভাবে বন্ধ। এখন আগ্রহী কারখানাগুলোর প্রণোদনা প্রাপ্তির যোগ্যতা যাচাই-বাছাই চলছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমঘন শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল এবং বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পের ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প খাত এমন এক সংকটে পড়েছে, যার কারণ শুধু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা নয়; অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতা, আর্থিক সংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ঘাটতিও সমানভাবে চলছে।

আগেই বলা হয়েছে, কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ তীব্র আর্থিক সংকট। এ ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, কার্যকর মূলধনের অভাব, ডলারের সংকট, কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশকে টিকে থাকার লড়াই স্তিমিত হয়ে যায়। অনেক উদ্যোক্তা নিয়মিত শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না। কেউ কেউ বিদ্যুৎ, গ্যাস কিংবা ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে কারখানা বন্ধ করাই অনেকের কাছে শেষ বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি সম্প্রতি আমার শিল্প-কারখানাটি যে এলাকায় সেখানে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গেছে। মালিক পক্ষ বেশ কয়েক মাস থেকেই অর্ডার স্বল্পতায় ভুগছিল। কিছুদিন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে কারখানা চালিয়ে ছিলেন। বেশ কয়েক দফায় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েও কোনো ঋণের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এক সময় শ্রমিকরা তাদের বেতনের জন্য মালিককে ঘেরাও করে রাখে। শেষপর্যন্ত প্রশাসনের সহায়তায় মালিক পক্ষ তাদের জেনারেটরসহ সকল মেশিন ও যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় আমার জানা মতে গত ৬ মাসে ২৮টি ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

শিল্প খাতের আরেকটি বড় সংকট হচ্ছে নীতিগত অনিশ্চয়তা। উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিকে। কিন্তু যখন ব্যাংকিং নীতি, করনীতি, আমদানি নীতি কিংবা জ্বালানি সরবরাহ বারবার পরিবর্তিত হয়, তখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা কঠিন হয়ে পড়ে। শিল্প স্থাপন কিংবা সম্প্রসারণ একটি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত। সেখানে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ হওয়ার পরও এ নিয়ে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব অনেকটাই স্পষ্ট। কোথাও সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে সমন্বিত জরিপ নেই, কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি হচ্ছে না, আবার কোথাও পুনর্বাসনের কার্যকর পরিকল্পনাও দেখা যাচ্ছে না।

কারখানা বন্ধ মানে শুধু মালিকের লোকসান নয়। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দেন শ্রমিকরা। একটি কারখানার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন শত শত কর্মী। আবার পরিবহন, খাদ্য, বাসাভাড়া, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সরবরাহ ব্যবস্থাÑ এসবের মাধ্যমে আরও বহু মানুষের জীবিকা নির্ভর করে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর। ফলে একটি কারখানা বন্ধ হলে তার অভিঘাত বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে। মানুষ কাজ হারায়, ব্যবসা সংকুচিত হয়। পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের নীরবতা ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে। আমি মনে করি, শিল্পের সমস্যা তখনই সমাধান হয়, যখন সরকার, উদ্যোক্তা, ব্যাংক, শ্রমিক সংগঠন এবং নীতিনির্ধারকরা একই টেবিলে বসে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজেন।

এখন সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি বিশেষ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। কোন প্রতিষ্ঠান সাময়িক তারল্য সংকটে, কোনটি বাজার সংকটে এবং কোনটি ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে সমস্যায় পড়েছেÑ এমন শ্রেণিবিন্যাস করে আলাদা সমাধান দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান সক্ষম হলেও সাময়িক নগদ সংকটে রয়েছে, তাদের সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল ও কার্যকর মূলধন দেওয়া প্রয়োজন। যাতে কারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

ব্যাংকিং খাতে শিল্পবান্ধব নীতি নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত সুদের চাপ, ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা শিল্পের জন্য বড় বাধা। শিল্পঋণকে কেবল বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। উৎপাদনের মাঝপথে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংকট শুধু উৎপাদন কমায় না, বরং যন্ত্রপাতির ক্ষতি এবং উৎপাদন ব্যয়ও বাড়িয়ে দেয়।

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণও জরুরি। কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা শিল্পকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। নতুন বাজার অনুসন্ধান, বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা দরকার। এই ক্ষেত্রে শিল্পাঞ্চল-ভিত্তিক একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া সেল গঠন করা যায়। যেখানে শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিএমএ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করবেন। যাতে কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার আগেই সমস্যার কারণ শনাক্ত করে সমাধান দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। শ্রমিকদের জন্য একটি অস্থায়ী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যাতে কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকরা অন্তত কিছু সময়ের জন্য ভাতা, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শিল্প রক্ষার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশ এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। শুল্ক সুবিধা কমে যাবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে। এমন সময় শিল্প খাত দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনীতির ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাই শিল্প রক্ষা এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।

আমি একজন ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে বলতে চাই, ৪৫৭টি কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কিন্তু এটিকে যদি একটি জাতীয় অর্থনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে এখনও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মনে রাখা দরকার, শিল্পের চিমনি থেকে ধোঁয়া ওঠা মানে শুধু উৎপাদন নয়; এর অর্থ মানুষের ঘরে রান্নার চুলা জ্বলা, শিশুর স্কুলে যাওয়া, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি, ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকা। তাই কারখানার তালাবদ্ধ গেট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। এখন প্রশ্ন একটাইÑ আমরা কি অপেক্ষা করব আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার, নাকি শিগগির সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে শিল্পকে বাঁচানোর? আশা করি, সদাশয় সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নজর দিবেন।

লেখক : কলাম লেখক ও শিল্পোদ্যোক্তা।

এইচআর/এএসএম