স্কটিশ লেখক ও চিকিৎসক স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তার জন্ম ১৮৫৯ সালের ২২ মে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে। বাবা চার্লস অ্যালগার্নন ডয়েল এবং মা মেরি ফোস্টারের দ্বিতীয় পুত্র ডয়েল প্রথমে এডিনবার্গ একাডেমিতে পড়াশোনা করেন এবং তারপর এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হন। ১৮৮২ সালে স্নাতক হন ডয়েল। স্নাতকের পর একটি জাহাজের চিকিৎসক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে অবশ্য লন্ডনে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে প্র্যাকটিস শুরু করেন।
তার সৃষ্ট অমর চরিত্র শার্লক হোমস একজন বেসরকারি গোয়েন্দা, যিনি বুদ্ধিমত্তা, পর্যবেক্ষণ দক্ষতা এবং যুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের সমাধান করতেন। ১৮৮৭ সালে ‘আ স্টাডি ইন স্ক্যারলেট’ উপন্যাসের মাধ্যমে শার্লক হোমসের আবির্ভাব হয়। হোমস সিরিজের সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস ‘দি অ্যাডভেঞ্চার অব শার্লক হোমস’, ‘দ্য সাইন অব দ্য ফোর’ এবং ‘দ্য হাউন্ড অব দ্য বাস্কারভিল’ ইত্যাদি। শার্লক হোমসকে নিয়ে তিনি চারটি উপন্যাস এবং ৫৬টি ছোটগল্প লিখেছিলেন। ডয়েল শুধু শার্লক হোমসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। রহস্যোপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ঐতিহাসিক উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি এবং নাটক লিখেছেন। শার্লক হোমসের বাইরে তার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো ‘দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য পয়জেনাস পেন’, ‘প্লেয়িং উইথ ফায়ার’ ইত্যাদি। তার বিখ্যাত কয়েকটি ঐতিহাসিক কাহিনি হলো ‘দ্য হোয়াইট কোম্পানি’, ‘স্যার নাইজেল’ প্রভৃতি।
আর্থার কোনান ডয়েলকে সর্বকালের সেরা ক্রাইম লেখকদের একজন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। শার্লক হোমস চরিত্রটি বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র। স্যার আর্থারের লেখা বিশ্বের বেশির ভাগ ভাষায়ই অনুবাদ করা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তার রয়েছে কোটি কোটি ভক্ত-পাঠক।
আর্থার কোনান ডয়েল ব্রিটিশ রেডক্রসের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। পেয়েছিলেন নাইটহুড খেতাবও। ১৯৩০ সালের ৭ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শার্লক হোমস ও প্রফেসর চ্যালেঞ্জারের এ স্রষ্টা মৃত্যুবরণ করেন।








