ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপে থাকলেও যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও আর্টিলারি (গোলাবর্ষণ) হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববার (৫ জুলাই) লেবাননে এসব হামলা চালানো হয়। এদিকে, অর্থ সংকটের কারণে চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
দৈনিক ইসরায়েল হায়োম জানায়, বর্তমানে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনার সংখ্যা কমিয়ে ৫০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
লেবাননের বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য মতে, রোববার (৫ জুলাই) দক্ষিণ লেবাননের কফারতেবনিত ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা শহরের মধ্যবর্তী আল-হারিক এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ইসরায়েলি কামান থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কানতারা শহরের উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করা হয়। টাইর জেলার মানসৌরি শহরে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে বিনত জাবেইল জেলার তাইরি শহরে ইসরায়েলি বাহিনী বিস্ফোরণ ঘটায়। পাশাপাশি দক্ষিণ উপকূলীয় শহর টাইরের আশপাশের গ্রাম ও শহরগুলোর আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনের ব্যাপক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কাঠামোগত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির লক্ষ্য ছিল সংঘাতের অবসান এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। তবে, সর্বশেষ হামলাকে ওই চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩০৩ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘাতের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
কেএম








