যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত অসুস্থতায় ৩৭৮ জনের বেশি মানুষ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহজনিত সতর্কতার আওতায় রয়েছেন দেশটির পূর্ব উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪ কোটি মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষ্যে উদযাপনের মধ্যেই অন্তত ১৮টি স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, বাল্টিমোর, র্যালি, নরফোক এবং আটলান্টিক সিটিসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
রোববার (৫ জুলাই) ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, র্যালি, চার্লসটন ও জ্যাকসনভিলসহ বিভিন্ন শহরে অনুভূত তাপমাত্রা ১০০ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছানোর আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসবে।
অন্যদিকে, অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু অংশে মঙ্গলবার (৭ জুলাই)থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া ফিনিক্স ও টুসন এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নিউ জার্সিতে। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ১০টি কাউন্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মিসিসিপির হাইন্ডস কাউন্টিতে দুইজন এবং ইলিনয়ের কুক কাউন্টিতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে তীব্র ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মিশিগানে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি, পেনসিলভানিয়ায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ এবং নিউ জার্সিতে ৯৪ হাজার ২০০-এর বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।
শনিবারের ঝড়ে দেশটির মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে ৫৪০টির বেশি ক্ষতিকর দমকা হাওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ওকলাহোমার নরম্যানে ঘণ্টায় ৯২ মাইল এবং নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টিতে ঘণ্টায় ৮৭ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) প্লেইনস, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর ও আর্লিংটন এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ মাইলের বেশি গতির ঝড়ো হাওয়া এবং বড় আকারের শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও টর্নেডোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত ডেলাওয়্যার থেকে কানেকটিকাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বন্যা সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। ধীরগতির বজ্রঝড় ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাসিন্দাদের রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শহরটিতে সর্বোচ্চ ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং প্রতি ঘণ্টায় ২ ইঞ্চি হারে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সোমবার (৬ জুলাই) পর্যন্ত ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক ও হার্টফোর্ডসহ বিভিন্ন শহরে মোট ২ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা নগর এলাকায় আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
কেএম








