সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বছরের শুরুতে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার পর আবার হু হু করে কমেছে সোনার দাম। এমন অস্থির সময়ে প্রথাগতভাবেই এই মূল্যবান ধাতুটিকে নির্ভরযোগ্য ও দৃশ্যমান সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।
কিন্তু এটি কি সত্যিই কোনো নিরাপদ বিনিয়োগ?
অস্থির সময়ে প্রায়ই সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। অর্থবাজার ধসে পড়লে হঠাৎ করে সোনা কেনার হিড়িক শুরু হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা সোনা কেনার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন
ধারণার চেয়েও কমে যেতে পারে সোনার দাম, বলছে পূর্বাভাস
সোনা কিনছে কারা?
‘হয় সরকার, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী অথবা খুচরা বিনিয়োগকারী,’ বলেন বেলফাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ড. ফিলিপ ফ্লায়ার্স।
তার কথায়, ‘সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে শেয়ারের মতো ইক্যুইটি ছেড়ে দিচ্ছে এবং সোনার দিকে ঝুঁকছে। আর এতে সোনার দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’
প্রথাগতভাবে আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনাকে ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধাতু’ হিসেবে ধরা হয়। যেমন—২০২০ সালে করোনা মহামারির শুরুতে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে হঠাৎ করেই সোনার দাম অনেক বেড়ে যায়। তবে মার্চ মাসের মধ্যেই সেই দাম আবার কমতে শুরু করে। অর্থাৎ, আর্থিক বাজারের অনিশ্চয়তা সোনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
‘এটি নিরাপদ বিনিয়োগ, তার মানে এই নয় যে এতে কোনো ঝুঁকি নেই,’ বলেন ড. ফ্লায়ার্স।
আরও পড়ুন
ভরি-ক্যারেট-হলমার্ক / সোনা কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সামাজিক প্রভাব
তবুও আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে এখনো সোনা বিবেচিত হয়। আর তা কেবল এর আর্থিক মূল্যের জন্য নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে গণ্য হওয়ায় এটি সহজে বিনিময়যোগ্য।
প্রাচীন মিশরের তুতেনখামুনের সোনার মুখোশ থেকে শুরু করে ঘানার আসান্তে জাতির গোল্ডেন স্টুল এবং ভারতের পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের সোনার সিংহাসন পর্যন্ত—ঐতিহাসিকভাবে সোনা ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে এসেছে।
তাই এতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই যে বহু মানুষ তাদের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সোনাকেই একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে দেখে।
আরও পড়ুন
সোনা ছাড়া আরও যেসব খাতে বিনিয়োগ নিরাপদ হতে পারে
সাধারণ বিনিয়োগ বনাম প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ
বাসায় থাকা সোনার গহনা বা এর তৈরি অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য সাধারণত বৈশ্বিক অর্থবাজারের ওঠানামায় তেমন প্রভাবিত হয় না। তবে ধাতুটিতে বড় পরিমাণে বিনিয়োগ করা হলে তা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অনেক বেশি করে সোনা কেনাই দায়ী বলে সন্দেহ করেন ড. ফ্লায়ার্স। অনিশ্চয়তার সময়ে রিজার্ভ শক্তিশালী করতে তারা শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে সরে এসে প্রচুর পরিমাণে সোনা কেনে।
আরও পড়ুন
সোনার দামে রেকর্ড পতন, এই সুযোগ থাকবে কতদিন?
সোনায় বিনিয়োগ কি তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ?
এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে মূল্যবান এই ধাতুতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ড. ফ্লায়ার্স বলেন, সোনার দাম বাড়বে এই আশায় বিনিয়োগ করাটা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। কারণ একবার বাজারে স্বস্তি চলে এলে এবং সরকারগুলো স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এলে, মানুষ আবার সোনা ছেড়ে দেবে। আমি বলব সোনায় বিনিয়োগ করলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে করতে হয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
কেএএ/








