ইরান যুদ্ধের ফলে একের পর এক সংকটে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, ক্রমেই দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। একদিকে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ব্যয়ের বোঝা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত তেলের মজুত থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়তে হচ্ছে। ফলে সামরিক, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি-তিন দিক থেকেই চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বৈশ্বিক তেল বাজার থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে এর অভিঘাত। রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, টেলিগ্রাফ ইউকে।
ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের এক নতুন পর্যায় প্রত্যক্ষ করছি।’ তার এই মন্তব্যকে ভুল বলার সুযোগ নেই। ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বোমা হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের যে হুমকি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করেছে। ইয়েমেনভিত্তিক ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী আরও দাবি করেছে, সৌদি আরবের আরও ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারা সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও বোমা হামলা চালাতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে। সৌদি আরব হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ এড়াতে দেশের বিপরীত উপকূলে অবস্থিত বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে বিকল্প পথ হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল দেশটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে রপ্তানি করা হচ্ছিল। ফলে লোহিত সাগরে এই নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দিয়ে ইরান কার্যত বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লড়াইয়ের সূচনাও করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে এই নতুন চাপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে এক সংকটসীমার আরও কাছে ঠেলে দিয়েছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে বিশ্বকে অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর সরবরাহ সংকট এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিু পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে। আরও প্রায় একই পরিমাণ তেল তারা ছাড়তে পারবে। এর বেশি ছাড়তে গেলে সংরক্ষণ ট্যাংক ও পাইপলাইনের ক্ষতির ঝুঁকি অত্যন্ত বেড়ে যাবে। চলতি মাসের শুরুতে ওই রিজার্ভে প্রায় ৩১ কোটি ৯৫ লাখ ব্যারেল তেল অবশিষ্ট ছিল। এদিকে যুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে।








