আট বছর আগে সৌদি আরবে গিয়ে একবারও দেশে আসেননি রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬)। ১৪ আগস্ট ফেরার কথা ছিল তাঁর। করেছিলেন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও। এর আগেই রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণটাই হারালেন তিনি।

আজ শুক্রবার ভোর বাগমারার মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায় শ্যামল উদ্দিনের কফিনবন্দী মরদেহ। কফিন খোলার আগেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

বেলা ১১টার দিকে মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে শ্যামলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান শ্যামল। রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন তিনি। প্রবাসের কঠিন জীবন আর শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থ পাঠাতেন পরিবারের জন্য। স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যতের স্বপ্নই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার শক্তি। তাঁর তিন মেয়ে। বড় মেয়ের আগেই বিয়ে হয়েছে।

এই আগস্টেই দেশে এসে মেজো মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল শ্যামলের। তাঁর মেয়ে এ বছর এসএসসি পাস করেছে। তাই পরিবারের সদস্যদের কাছে শ্যামলের দেশে ফেরার খবরটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দের। আট বছর পর তাঁর ফেরার জন্য দিন গুনছিলেন স্ত্রী ও তিন কন্যা।

কিন্তু গত ৯ আগস্ট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝিও। শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই পরিবারটি হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন। স্ত্রী রশিদা বিবি আর দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। শোকাহত গ্রামের মানুষও।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামলের প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, শ্যামল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। তিনটিই মেয়ে রয়েছে। শ্যামলের মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পরিবারটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।