‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বসতভিটায় পানি উঠতে শুরু করে। রাত হতেই ঘরে গলাসমান পানি চলে আসে। দুর্ঘটনা এড়াতে গভীর রাতে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। এর পর থেকেই এলাকার পরিত্যক্ত একটি ঘরে থেকেছি। এখন পানি কমলেও নিজের বাড়িতে যে থাকব সে অবস্থা আর নেই।’
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ঘরের সামনে কথাগুলো বলছিলেন সুকুমার আচার্য (৪২)। সুকুমারের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ মঙ্গলনগর বণিকপাড়া এলাকায়। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তাঁর বসতঘর ডুবে যায়। গতকাল সন্ধ্যায় বসতঘর থেকে বন্যার পানি নেমেছে।
সুকুমার বলেন, পানি নামলেও পুরো ঘরেই এখন কাদামাটি। ঘরের বেড়া, টিনও পানিতে নষ্ট হয়েছে। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে রান্নাঘরও। স্কুল পড়ুয়া তাঁর দুই সন্তানের বইখাতা, কাপড়সহ আসবাবপত্র সবকিছুই পানিতে ডুবে গেছে।
সুকুমার জানান, স্থানীয় একটি বাজারে স্বর্ণালংকারের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করেন তিনি। মাসে বেতন পান আট হাজার টাকা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করতে তাঁর প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হবে। ঘর মেরামতের এই টাকা তাঁর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আট হাজার টাকা বেতনের চাকরি করি, চার সন্তান নিয়ে এখন কই থাকব। নিজের কোনো সঞ্চয় তো নেই। পরিবারের খাবার খরচ কীভাবে মেটাব তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’
সুকুমারের স্ত্রী অর্পণা আচার্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল থেকে খবর পাচ্ছি জনপ্রতিনিধিসহ অনেকে ত্রাণসহায়তা দিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের খবর কেউ নেয়নি। ঘরের চুলা নষ্ট হয়ে গেছে। মুদিদোকান থেকে আনা অল্প শুকনা খাবার খেয়ে দিনাতিপাত করছি।’
গতকাল থেকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আগের চেয়ে পানি কিছুটা কমেছে। তবে সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত। এ উপজেলায় এখনো পানিবন্দী রয়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ। উপজেলায় সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কে এখনো যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত। এ উপজেলায় এখনো পানিবন্দী রয়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ। উপজেলায় সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে লোহাগাড়ার সদর ইউনিয়ন, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ খাবার ও পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পাউবো চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, বন্যা পূর্বাভাসকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে।







