চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আন্দোলনের শুরু থেকে জোরালো ভূমিকা পালন করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কখনো ফেসবুকে, কখনো দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজের ব্যানারে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। 

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন আজমেরী হক বাঁধন। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “বাংলাদেশ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। দেশপ্রেমটা তো আস্তে আস্তে তৈরি হয়। এটাকে ডেভেলপ করতে হয়। জন্ম থেকে কেউ দেশপ্রেমী হয় না। এই দেশপ্রেম আমার মধ্যে কিছুটা হলেও আছে। দেশ, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা আছে। আমার স্বপ্ন ছিল, একটা দেশের, সমাজের; যেখানে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে প্রতিটা বিশ্বাসের মানুষ তার স্বাধীনতা বুঝে পাবে। যার যে মর্যাদা, সে সেটা বুঝে পাবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হবে, বৈষম্যহীন একটা সমাজব্যবস্থা হবে।” 

এসব প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে? উত্তরে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “সেই প্রত্যাশার জায়গাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় যা যা হয়েছে, সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। সেটা আমাকে আশাহত করেছে।” 

৫ আগস্ট আপনার জীবন কতটা বদলে দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “৫ আগস্টের পর আমার জীবন অনেকটাই বদলে গেল। একধরনের স্বপ্ন, আশা ছিল; বিকেলটায় সেটাই যেন পেয়েছিলাম। এরমধ্যে অনেক দুর্ঘটনা ঘটলেও অনেকেই দেশটাকে আগলে রেখেছিল। আমার মনে হচ্ছিল—এই বুঝি দেশটায় পরিবর্তন হওয়া শুরু হলো, আমরা সবাই এক হয়ে দেশটাকে পরিবর্তন করব।” 

খানিকটা ব্যাখ্যা করে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “আমাদের মতের বিশ্বাসের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এক হয়ে সবাই দেশটাকে গড়ে তুলতে পারব, সেই বিশ্বাস ছিল। কিন্তু ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় যে পরিমাণ দুর্নীতি, যে পরিমাণে মব কালচার, যে পরিমাণ নারীর প্রতি সহিংসতা, মাজার ভাঙা, বাউলদের ওপর আক্রমণ, ম্যুরাল ভাঙা, শেখ মুজিবের মূর্তি ভেঙে ফেলা, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ভেঙে ফেলা, অনেক পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া—এগুলো আমাকে সময়ের সঙ্গে খুব তাড়িত করেছে।” 

কোনো কিছু নিয়ে এখনো আতঙ্কিত হন কি না—জানতে চাইলে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “এখন আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে হতাশা বেশি। আমি যে স্বপ্নটা দেখেছিলাম, এই বুঝি পরিবর্তন শুরু হবে। কিন্তু সেই পরিবর্তন শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। এটা আমাকে হতাশ করছে।”