অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য রাতের খাবার তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার (৩৫)। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে সন্তানদের নিয়ে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন স্বামী। তারা ফেরার আগেই বিকট শব্দে ধসে পড়ে পাশের পাহাড়। মুহূর্তেই মাটি ও বাঁশঝাড়ের নিচে চাপা পড়ে যায় রান্নাঘর। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর রোজিনাকে বের করা হলেও ততক্ষণে নিভে গেছে তার জীবন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ আলম জানান, টানা বর্ষণে বাড়িতে আসা অতিথিদের জন্য রাতের খাবার প্রস্তুত করছিলেন রোজিনা আক্তার। রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও অতিথিরা রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়ির ওপরের পাহাড় ধসে পড়ে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়েছে। পাহাড়ের মাটি ও বাঁশঝাড়ের নিচে চাপা পড়েন রোজিনা আক্তার। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা রোজিনা আক্তারকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেননি। তাই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার সদরের ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, টানা বর্ষণের সময় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা দরকার। ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সেটা উল্লেখ করে মাইকিংসহ ফোর্সও করা হয়। এরপরও অনেকে বাড়ি ছেড়ে যান না। ফলে, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছেই। পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকলে কোনোভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কক্সবাজার জেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৮জন নিহত হয়েছেন। এদের মাঝে রোহিঙ্গা রয়েছেন ১৭জন।
সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এএসএম








