সিংগাইরে কিশোর অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি স্যান্ডেল এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার ৯ দিনের মাথায় আসাদুজ্জামান নামে যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার পিবিআই মানিকগঞ্জের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জের গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের একটি আবাসিক হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত। নিহত সাবিকুল ইসলাম গোবিন্দপুর মৃতরা গ্রামের বাসিন্দা।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় সাবিকুল ইসলাম। পরদিন সিংগাইরের জামশা ইউনিয়নের গোলাই নতুনপাড়ায় রাস্তার পাশে পাটখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর থেকে সন্দেহভাজন আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সাবিকুলের অটোরিকশায় ওঠেন। ভাঙাচোরা সড়কে চলার সময় গাড়ির ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে চালকের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে রাস্তার পাশের একটি পাটখেতে নিয়ে সাবিকুলকে মারধর করে তার মুখ কাদায় চেপে ধরেন এবং ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে শ্বাসরোধে ওই কিশোর চালকের মৃত্যু হয়। হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় আসাদুজ্জামানের একটি স্যান্ডেল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে, যা গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত ৩০ জুন বিকাল থেকে ১ জুলাই রাত আড়াইটার মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।