শেরপুরে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন লিখন হাসান নামের এক তরুণ। হঠাৎ ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা এসে কয়েকজন তাঁকে জোর করে তুলে নেন। চলন্ত অটোরিকশার ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়। সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে র‍্যাবের টহল গাড়ি দেখে চলন্ত অটোরিকশা থেকে পাকা সড়কে লাফ দেন লিখন। পরে ওই চক্রের তিন সদস্য র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন। গতকাল সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লিখন হাসান (১৯) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গুজারকুড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে বোনের বাসা থেকে গতকাল বিকেলে শেরপুরে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন লিখন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে তিনি নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় বাস থেকে নেমে শেরপুরগামী অন্য বাস ধরতে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি অটোরিকশা এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায়। তাতে চালকসহ তিনজন ছিলেন। তাঁরা জোর করে লিখনকে অটোরিকশায় তুলে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। এরপর তাঁকে মারধর করে একটি মুঠোফোন ও সঙ্গে থাকা ৩১০ টাকা ছিনিয়ে নেন। একই সঙ্গে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন।

দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে কেওয়াটখালী বাইপাস সড়কের ময়নার মোড় এলাকায় অন্য একটি অভিযানে যাওয়ার পথে র‍্যাবের একটি টহল গাড়ি দেখতে পান লিখন। তখন তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ঝাঁপ দেন। পরে র‍্যাব সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন এবং অটোরিকশায় থাকা তিনজনকে আটক করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (২০), সাব্বির হোসেন ওরফে তপন (২০) এবং মো. সোয়াদ (১৯)। রাকিবের বাড়ি ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর এলাকায়, তপনের বাড়ি বলাশপুর আবাসন প্রকল্পে এবং সোয়াদের বাড়ি কেওয়াটখালী শ্মশানপাড়া এলাকায়।

র‍্যাব আজ মঙ্গলবার ওই তিনজনকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে। ভুক্তভোগী লিখন হাসান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছি। এদের সঙ্গে আরও কারা আছে, তা দেখা হচ্ছে।’

র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ‘আটক তিনজন জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করে জোরপূর্বক ইজিবাইকে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকাপয়সা, মুঠোফোন এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে আসছিলেন। চক্রটি অনেক বড়। তাঁদের সবাইকে ধরতে আমরা কাজ করছি।’