বগুড়ার কানছগাড়ি এলাকায় মুরগির খামারের সামনে ঘেউ ঘেউ করায় একটি কুকুরকে ছুরিকাঘাত করে ড্রেনে ফেলে রাখার অভিযোগে স্বপন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন প্রাণী অধিকার কর্মীরা।

পুলিশ জানায়, ছুরিকাঘাতের পর কুকুরটি রক্তাক্ত অবস্থায় একটি ড্রেনে পড়ে ছিল। খবর পেয়ে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সদস্য এমরান হোসেন কুকুরটিকে উদ্ধার করে শহরের জলেশ্বরীতলার ‘পেট কনসাল্টেন্সি’তে নিয়ে যান।

পরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় কুকুরটির চিকিৎসা শুরু হয়। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রায়হানের নেতৃত্বে এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. লুৎফর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি টিম অস্ত্রোপচার করে।

ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. লুৎফর রহমান বলেন, `কুকুরটির শরীরে অনেক গভীর ক্ষত ছিল। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে পেট কনসাল্টেন্সিতে চিকিৎসাধীন। রাতে কুকুরটির জ্ঞান ফিরেছে, তবে এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।'

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের মালতিনগর বকশী বাজার এলাকা থেকে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, গ্রেপ্তারের সময় স্বপন মিয়ার কাছ থেকে একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বপন মিয়ার মুরগির ফার্মের সামনে কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এ ঘটনায় অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সদস্য এমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। চাকু উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেছে।