দীর্ঘ প্রায় দুই দশক মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইল শহরে বাস করছেন। দেড় যুগেরও বেশি তার সঙ্গে গৃহবধূ নাজমা আলম ও তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক। সম্প্রতি মোশারফ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে নাজমা আলমের কাছে এক লাখ টাকা ঋণ চান। টাকা দিতে অস্বীকার করায় কৌশলে নাজমাকে হত্যা করেন মোশারফ। 

স্বীকারোক্তিতে মোশারফ এ তথ্য দিয়েছেন বলে জানান টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন। 

নাজমা আলম হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি পেশায় মুয়াজ্জিন। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে নাজমা আলম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোশারফ নাজমাকে হত্যার সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরে ঘরে রাখা স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি নিয়ে যায়। টাকা চেয়ে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। 

উল্লেখ্য, রবিবার সকালে নাজমা আলমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রহস্য উদঘাটনে তৎপর হয়।