নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর মরদেহ সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর আজ শুক্রবার দাফন করা হয়েছে। সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় আগুনে নিহত ১১ বাংলাদেশির মধ্যে তাঁরা ছিলেন। সকাল ১০টায় আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে একসঙ্গে জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে আত্রাই উপজেলার সাতজনসহ মোট নয় প্রবাসীর মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশে আসে। সেখান থেকে লাশবাহী গাড়িগুলো রাত ১টার দিকে আত্রাই থানায় পৌঁছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে সাতজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে ফরিদ উদ্দীন, গন্ডগোয়ালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের আব্দুল গফ্ফারের দুই ছেলে সুমন ও মোহন, বজলুর রহমানের ছেলে কলিমউদ্দীন, ডুবাই গ্রামের বাদল তালুকদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দীন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কলেজ মাঠ থেকে লাশবাহী গাড়িগুলো হুইসেল বাজিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন, গ্রামবাসী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ শেষবারের মতো তাঁদের দেখতে ভিড় করেন।

স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে। সন্তান, স্বামী ও বাবাকে শেষবার স্পর্শ করতে অনেকে কফিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। কয়েকজন শোক সহ্য করতে না পেরে অচেতন হয়ে যান।

জুমার নামাজের পর দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সাতজনকে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ৩ লাখ টাকা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় আগুনে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার একই গ্রামের চারজনসহ মোট ১১ জন ছিলেন। বৃহস্পতিবার সাতজনের মরদেহ দেশে আসার পর আজ তাঁদের দাফন করা হয়।