তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ ইরানির কাছে বিষয়টি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার বিয়োগান্তক বিদায় নয়, বরং এটি ইমাম হুসাইনের ত্যাগ, প্রতিরোধ ও শাহাদাতের গভীর শিয়া ঐতিহ্যের এক ধারাবাহিকতা।
জানাজা উপলক্ষে সমবেত লাখো মানুষের ভিড়ে কারবালার প্রতীকগুলোই ছিল সবচেয়ে দৃশ্যমান। ধর্মীয় স্থানগুলোর ওপর ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি উড়ছিল লাল পতাকা। উপস্থিত শোকাতুর মানুষের মতে, এই লাল পতাকা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচারের চিরন্তন আহ্বানের প্রতীক।
আরও পড়ুন
চাপ-হুমকি উপেক্ষা করে খামেনির জানাজায় বিদেশিরা, কৃতজ্ঞতা জানাল ইরান
জানাজার ফাঁকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন এক শোকগ্রস্ত ব্যক্তি। তিনি জানান, শাহাদাত বা আত্মত্যাগের ধারণাটি ইসলামে এবং বিশেষ করে শিয়া ধর্মতত্ত্বে একটি কেন্দ্রীয় স্থান দখল করে আছে।
তিনি বলেন, শাহাদাতের কথা কেবল ইরানেই নয়, পবিত্র কোরআনেও রয়েছে। যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানবতার কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তিনিই শহীদ।
উপস্থিত অনেকের কাছেই এই বিশ্বাস মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার প্রান্তরে উমাইয়া শাসক ইয়াজিদের কাছে মাথানত না করায় শহীদ হয়েছিলেন ইমাম হুসাইন। শিয়াদের এই ঘটনাটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় প্রতীক।
অত্যাচারীর বিরুদ্ধে চিরন্তন বার্তা
জানাজায় অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তি পশ্চিমা ভোগবাদী সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইমাম হুসাইনের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের তুলনা করে বলেন, ইমামের পথ হলো অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে জীবন উৎসর্গ করা।
আরও পড়ুন
অশ্রুসিক্ত নয়নে ইমাম খামেনিকে লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা
মাজারের গম্বুজের ওপর থাকা লাল পতাকার দিকে ইশারা করে তিনি বলেন, এটি ইমাম হুসাইনের সেই চিরন্তন বার্তা বহন করছে, যা কখনো অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ না করার শিক্ষা দেয়।
তিনি আরও বলেন, ইমাম হুসাইনের বার্তা কেবল মুসলিমদের জন্য নয়, এটি পুরো মানবতার জন্য। সারা বিশ্বই এই আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
বর্তমান সময়ের সঙ্গে কারবালার সরাসরি তুলনা টেনে ওই শোকাতুর ব্যক্তি বলেন, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ খামেনিও একই পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি মানবতার কল্যাণেই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
জানাজায় আসা অন্য অনেকের কণ্ঠেও একই সুর শোনা গেছে। তারা খামেনির বিদায়কে সমসাময়িক ভূরাজনীতির আলোতে না দেখে কারবালার ঘটনার আলোকেই দেখছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কেএএ/








