রাজশাহী নগরীর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি ও ঐতিহ্য। পদ্মার তীরের এই শহর একসময় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে যেমন পরিচিত ছিল, তেমনি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রেও ছিল অগ্রগামী। সেই ইতিহাসেরই এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ঢোপকল। তবে অযত্নে-অবহেলা হারিয়ে যেতে বসেছে রাজশাহীর আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রথম স্মৃতিচিহ্ন ঢোপকল।
জানা গেছে, প্রায় ৮৮ বছর আগে ১৯৩৭ সালে রাজশাহী শহরে আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল এই ঢোপকলের মাধ্যমে। কিন্তু সময়ের বিবর্তন, নগরায়ণ এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় ঐতিহাসিক এসব স্থাপনা এখন অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয়রা জানায়, রাজশাহী নগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ঢোপকল। একসময় হাজারো মানুষের সুপেয় পানির নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল এসব স্থাপনা। রাজশাহীর আধুনিক নাগরিক জীবনের সূচনার সাক্ষী হয়ে থাকা ঢোপকলগুলোর অধিকাংশই এখন অকার্যকর। কোথাও ভেঙে পড়েছে, কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে, আবার কোথাও নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে অতীতের স্মারক হয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া, ফায়ার সার্ভিস মোড়, পাঠানপাড়া, রানীবাজার, অলোকার মোড় ও কুমারপাড়াসহ হাতে গোনা কয়েকটি এলাকায় কিছু ঢোপকলের অস্তিত্ব নড়বড়ে অবস্থায় টিকে আছে। একসময় শহরজুড়ে অর্ধ শতাধিক ঢোপকল থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচটি। বাকি অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
‘এখন ঢোপকলগুলো শুধুমাত্র রাজশাহীর ঐতিহ্য। কিন্তু অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের মতো ঢোপকলগুলোও বিলুপ্তির পথে। নগর উন্নয়ন ও রাস্তা প্রসস্তকরণের কারণে এক এক করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে ঢোপকলগুলো। অথচ এগুলোর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিৎ।’
রাজশাহী নগরীর ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘রাজশাহী হেরিটেজ’-এর সমন্বয়ক আবদুল মান্নান বলেন, ঢোপকল শুধু একটি পানির আধার নয়, এটি রাজশাহীর নগর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে এগুলো সংরক্ষণ করে নগর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
জানা গেছে, বিশ শতকের ত্রিশের দশকে রাজশাহী শহরে নিরাপদ পানির তীব্র সংকট ছিল। নগরবাসী পুকুর, কূপ ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর জলাধারের পানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রায়ই কলেরা, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিত। চিকিৎসা ব্যবস্থা সীমিত থাকায় এসব রোগে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটত। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
তৎকালীন রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান রায় ডি. এন. দাশগুপ্ত (১৯৩৪-১৯৩৯) রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেন। সিদ্ধান্ত হয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় বিশেষ ধরনের পানির আধার স্থাপন করা হবে, যেখানে মানুষ সহজেই বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপই ছিল ঢোপকল। ১৯৩৭ সালের আগস্ট মাসে মিনিস্ট্রি অব ক্যালকাটার অধীনে ‘রাজশাহী ওয়াটার ওয়ার্কস’ নামে পানি শোধন ও সরবরাহ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা, যা সে সময়ের হিসেবে ছিল বিশাল অঙ্কের অর্থ।
আরও পড়ুন
‘মশা মারতে শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর ভরসা করলে বিপদ বাড়বে’
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মহারানী হেমন্ত কুমারী। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন, যা ছিল প্রকল্পটির সর্ববৃহৎ একক অনুদান। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা বোর্ডের দেওয়া জমিতে নির্মিত পানি শোধনাগারের নাম রাখা হয় ‘মহারানী হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস’। পরবর্তীকালে এর আওতায় নির্মিত পানিকলগুলো ‘হেমন্ত কুমারী ঢোপকল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
‘রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল শুধু একটি পুরোনো পানির উৎস নয়, এটি আমাদের জলসভ্যতার প্রত্নস্মারক এবং ইতিহাস, প্রযুক্তি ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের এক অনন্য সাক্ষ্য। এর ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে একটি সময়ের গল্প, যা রাজশাহীর ঐতিহ্য ও লোকস্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
ইতিহাসবিদদের মতে, সে সময় একজন নারী জমিদারের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে এত বড় অঙ্কের অনুদান ছিল অত্যন্ত বিরল এবং তা রাজশাহীর জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এদিকে রাসিক সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক রাজশাহী বিনির্মাণে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ১ হাজার ৮০ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৬ টাকা ১৬ পয়সার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদিত হয়। যার একটি বড় অংশ ব্যয় হবে নগর অবকাঠামো, রাস্তা পুনর্নির্মাণ ও প্রসস্তকরণ, ফোরলেনকরণ, ড্রেন নির্মাণ, ফ্লাইওভার প্রভৃতি প্রকল্পে। এরইমধ্যে নগরীজুড়ে বিভিন্ন রাস্তা প্রসস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে ভাঙা পড়েছে বেশ কয়েকটি ঢোপকল।

বর্তমানে কতটি ঢোপকল অবশিষ্ট রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মিশুর কাছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাসিকের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ঐতিহ্যবাহী এসব ঢোপকলের অবস্থান ও তালিকাসহ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ঢোপকল ছিল তৎকালীন সময়ের অত্যাধুনিক পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা। পানি শোধনাগারে প্রথমে পাথর কুচি ও বালির স্তরের মাধ্যমে পানি পরিশোধন করা হতো। এরপর সিমেন্টের তৈরি মোটা পাইপের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ঢোপকলগুলোতে পানি সরবরাহ করা হতো। প্রতিটি ঢোপকলের ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৪৭০ গ্যালন। এর ভেতরে ‘রাফিং ফিল্টার’ থাকায় পানি আরও একবার পরিশোধিত হয়ে বের হতো। ফলে সরবরাহকৃত পানি ছিল নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা।
আরও পড়ুন
অস্তিত্ব সংকটে হোসনিগঞ্জের বেতশিল্প, পেশা ছাড়ছেন কারিগররা
দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হলেও ঢোপকলের ভেতরে পানি সংরক্ষিত থাকত। ফলে নগরবাসী দিনের যেকোনো সময় সেখানে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে পারতেন। পানির মান নিশ্চিত করতে প্রতি দুই মাস অন্তর ঢোপকল পরিষ্কার করা হতো এবং পরীক্ষাগারে পানির নমুনা পাঠিয়ে গুণগত মান যাচাই করা হতো। সে সময়ের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এটি ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ।
‘উন্নয়নের পথে এমন ঐতিহ্যকে হারিয়ে নয়, সংরক্ষণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ ঢোপকল রক্ষা করা মানে শুধু একটি স্থাপনা নয়, রাজশাহীর নগর সভ্যতার জন্ম-ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো।’
স্থাপত্যের দিক থেকেও ঢোপকল ছিল ব্যতিক্রমী। প্রায় ১২ ফুট উঁচু ও চার ফুট ব্যাসের গোলাকার এসব স্থাপনা সিমেন্ট, ইটের খোয়া ও বিশেষ ঢালাই প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছিল। ঢেউ খেলানো নকশার কারণে দূর থেকেই এগুলো সহজে চোখে পড়ত।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় ঢোপকল ছিল এলাকার পরিচয়ের অংশ। কোনো স্থানের ঠিকানা বোঝাতে পর্যন্ত ঢোপকলের নাম ব্যবহার করা হতো।
স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে ঘরে ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হলে ঢোপকলের ব্যবহার কমে যায়। পরবর্তীকালে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নগর উন্নয়ন প্রকল্প এবং দখল-অবহেলার কারণে একে একে হারিয়ে যেতে থাকে এসব স্থাপনা। বর্তমানে যে কয়েকটি টিকে আছে, সেগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনার কোনো সংস্কার বা সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ফলে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও ঢোপকলগুলো ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে এগিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ফোকলোর ও উন্নয়ন গবেষক এস. এম. তাহমিদ হাসান বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল শুধু একটি পুরোনো পানির উৎস নয়, এটি আমাদের জলসভ্যতার প্রত্নস্মারক এবং ইতিহাস, প্রযুক্তি ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের এক অনন্য সাক্ষ্য। এর ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে একটি সময়ের গল্প, যা রাজশাহীর ঐতিহ্য ও লোকস্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের পথে এমন ঐতিহ্যকে হারিয়ে নয়, সংরক্ষণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ ঢোপকল রক্ষা করা মানে শুধু একটি স্থাপনা নয়, রাজশাহীর নগর সভ্যতার জন্ম-ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো।
নগর গবেষক, ইতিহাসবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, ঢোপকল শুধু একটি পানিকল নয়; এটি রাজশাহীর জনস্বাস্থ্য আন্দোলন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক উন্নয়নের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এগুলোকে সংরক্ষণ করে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
রাজশাহী ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তৌহিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঢোপকল সংরক্ষণ নিয়ে বর্তমানে কোনো প্রকল্প নেই।
অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ছোট আকারের স্থাপনা হওয়ায় এগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্ত করা কিছুটা জটিল। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নগর গবেষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর নতুন প্রজন্মের অনেকেই ঢোপকলের ইতিহাস জানে না। অথচ একসময় এই ঢোপকলই ছিল নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির প্রধান ভরসা। ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে অবশিষ্ট ঢোপকলগুলো জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি স্থাপনার সামনে তথ্যফলক স্থাপন করা হলে মানুষ এ সম্পর্কে জানতে পারবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ও হেরিটেজ বাংলাদেশ ইতিহাসের আরকাইভসের পরিচালক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, রাজশাহী নগরীতে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য একসময় প্রসিদ্ধ ছিল এই ঢোপকল। সেসময় রাজশাহী শহরে পানযোগ্য পানির খুবই অভাব ছিল। এতে কলেরা-আমাশয়সহ পেটের নানান অসুখ ছড়িয়ে পড়েছিল। বেশ কিছু মানুষের মৃত্যুও হয়েছিল। এজন্য ঢোপকলগুলো সবার স্মরণে রয়েছে।
আরও পড়ুন
পর্যটক সংকটে ম্লান হাওরের পর্যটন
তিনি আরও বলেন, এখন ঢোপকলগুলো শুধুমাত্র রাজশাহীর ঐতিহ্য। কিন্তু অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের মতো ঢোপকলগুলোও বিলুপ্তির পথে। নগর উন্নয়ন ও রাস্তা প্রসস্তকরণের কারণে এক এক করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে ঢোপকলগুলো। অথচ এগুলোর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিৎ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজশাহীর আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সূচনা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং নগর সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে ঢোপকলের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত। অথচ এসব স্থাপনার অনেকগুলো ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে, আর যেগুলো টিকে আছে সেগুলোও ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে রাজশাহীর এই অনন্য ঐতিহ্য কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে নগরীর কয়েকটি জায়গায় ঢোপকল স্থানান্তর করতে হয়েছে। ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নগরীর ইতিহাস তুলে ধরতেই নতুনভাবে এগুলোর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এনএইচআর/এএসএম








