অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক ডেভিড আলাবার জন্ম রাজধানী ভিয়েনায়। কিন্তু এই তারকা ফুটবলারের পরিবারের বাকি সদস্যরা একেকজন একেক দেশের নাগরিক। ৩৪ বছর বয়সী ডেভিড আলাবার বাবা নাইজেরিয়ার নাগরিক। তিনি নাইজেরিয়ার ওগেরে অঞ্চলের একজন ইয়োরুবা রাজপুত্র। প্রথমে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় এসেছিলেন তিনি। তারপর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রক্ষী সৈনিক হিসেবে যোগ দেন অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীতে। বর্তমানে তিনি একজন ডিজে ও সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। আর তাঁর মা ফিলিপাইনের ভিসায়ান অঞ্চলের নাগরিক। তিনি একজন নার্স হিসেবে কাজ করার জন্য অস্ট্রিয়ায় অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন। ১৯৮০ সালে তিনি নিজ দেশ ফিলিপাইনে ‘মিস ফিলিপাইন’ খেতাবও জিতেছিলেন।

আলাবার দাদা ছিলেন কঙ্গোর নাগরিক। আর স্ত্রী জার্মানির নাগরিক। তারকা এই ফুটবলারের পরিবারের কিছু সদস্য থাকেন ইংল্যান্ডে। আর তিনি নিজে ফুটবল খেলার জন্য বসবাস করেন স্পেনে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কোন দল সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে, সবচেয়ে ভদ্র কারা

ডেভিড আলাবা মাঠে নিজের বৈচিত্র্যময় পারিবারিক পরিচয়কে বেশ গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি প্রায়ই তাঁর ফুটবল খেলার বুটে ফিলিপাইনের পতাকার নকশা রাখেন। আবার ২০১২-১৩ মৌসুমে ওয়েম্বলিতে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল জেতার পর তিনি মাঠে নাইজেরিয়ার পতাকা উড়িয়ে আনন্দ উদ্‌যাপন করেছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে ডেভিড আলাবার

ডেভিড আলাবার বোন রোজ মে আলাবাও বেশ জনপ্রিয় গায়িকা ও গীতিকার। ২০১৬ সালে তাঁর গাওয়া ‘লাভ মি রাইট’ গানটি দারুণ জনপ্রিয় হয়। গানটি টানা চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অস্ট্রিয়ার আইটিউনস তালিকার এক নম্বরে ছিল।

২০১৭ সালে ইউরোপের ‘ইউরোপা মিউজিক কনটেস্ট’ নামের একটি গানের প্রতিযোগিতায় অস্ট্রিয়ার অংশ নেন রোজ মে আলাবা। ওই বছরই অস্ট্রিয়ায় ‘স্পেশাল অলিম্পিকস ওয়ার্ল্ড উইন্টার গেমস’ অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি জাতীয় সংগীত গেয়েছিলেন।

আর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন
আলাবার গোলে আসে সমতা

বাবা নাইজেরিয়ার ও মা ফিলিপাইনের নাগরিক হওয়ায় ডেভিড আলাবা ছোট থেকেই দুটি ভিন্ন সংস্কৃতি চিনেছেন। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা অস্ট্রিয়ায়, আর ফুটবলের কারণে পরে জার্মানিতে কাটিয়েছেন ১৩ বছর। এসব কারণে তাঁর জীবনজুড়ে রয়েছে নানা দেশের সংস্কৃতির ছোঁয়া। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি আলাবার খাবারের পছন্দের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রয়েছে। তিনি মেক্সিকান খাবার খেতে খুব পছন্দ করেন।

আলাবা অস্ট্রিয়া, জার্মানি বা স্পেনের বড় ক্লাবগুলোতে খেললেও তাঁর পছন্দের দল কিন্তু অন্য দেশের। ছোটবেলা থেকেই তিনি তুরস্কের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব গালাতাসারের ভক্ত। এক সাক্ষাৎকারে আলাবা তুরস্কের এই ক্লাবের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, গালাতাসারে ক্লাবের প্রতি আমার আলাদা ভালো লাগা আছে।’

সূত্র: গোল ডটকম, ও মাই গোলঘানার ওঝার মন্ত্র আর হ্যারি কেইন