বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল ছিটকে যেতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন নেইমার। তাকে আর ব্রাজিলের জার্সিতে হলুদ ফুল ফোটাতে দেখা যাবে না। সিদ্ধান্ত কি বদলাবেন ব্রাজিল তারকা? বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তার বাবা। তার কাতর অনুরোধ, ‘প্লিজ ফুটবল খেলে যাও।’ ১৬ বছর আগে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। রোববার রাতে সেই মাঠেই শেষ হয়েছে তার ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। নরওয়ের কাছে হারের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এবার সব শেষ। এখানেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ করলাম।’
কিন্তু তার বাবা নেইমার সিনিয়র চান না এভাবে সব শেষ হয়ে যাক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা! কত সুন্দর পথ পেরিয়ে এলে। তাতে চ্যালেঞ্জ ছিল, কষ্ট ছিল। স্রষ্টার আশীর্বাদও ছিল। তোমার মধ্যে শুধু প্রতিভা ছিল না, ছিল একটি প্রতিজ্ঞা। প্লিজ, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবার বল পায়ে খেলার আনন্দ খুঁজে নাও। মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। স্রষ্টা তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোকে ভয় পেয়ো না। বর্তমানে বাঁচো, অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও, পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দাও।’
এর আগে মেসিও অবসর ভেঙে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তখন তার বয়স কম ছিল। সেখানে নেইমারের বয়স ৩৪। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে তিনি ক্যারিয়ার শেষ করলেন। নেইমার খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ট্র্যাজিক নায়ক হিসাবে থেকে যাবেন তিনি।








