কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের তদবির, সুপারিশ গ্রহণ বা প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এ নির্দেশনা অমান্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে বিভাগীয় বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। 

পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রয়োজন, দাপ্তরিক স্বার্থ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তন একটি নিয়মিত ও চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলে কর্মপরিবেশে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রশাসনিক প্রয়োজন ও প্রচলিত বিধি-বিধানের আলোকে সময়ে সময়েই বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের আদেশ জারি করা হয়। 

আরও পড়ুন

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস / সরছেন না আওয়ামী লীগ-জামায়াতপন্থিরা, নিয়োগ না পেয়ে ক্ষোভ বিএনপিপন্থিদের

অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের আদেশ জারির আগে কিংবা পরে কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এ বিষয়ে মন্তব্য বা আলোচনা করছেন। এসব কার্যক্রম সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত আচরণের পরিপন্থি।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের আদেশ জারির আগে মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা বা মতামত নেওয়ার কোনো বিধান প্রচলিত নেই। 

আরও পড়ুন

হাজার কোটি টাকা খরচেও নামে না ঢাকার পানি, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে জোর

এ অবস্থায় অধিদপ্তর ও এর অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের তদবির, সুপারিশ গ্রহণ বা প্রদান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো মাধ্যমে মন্তব্য কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও দাপ্তরিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

আরএমএম/কেএসআর