বাগেরহাটে ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা। চিকিৎসকদের মতে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধি পাওয়া এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৮ জন। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২৩০ জন।

জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোকেয়া বেগম জাগো নিউজকে বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলাম। জ্বরের ওষুধ খেয়েও কমছিল না। পরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসি। হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। এখন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েছি।’

রিয়াজ তরফদার নামের আরেক রোগী বলেন, ‘এরকম জ্বর আগে কখনো হয়নি। হাত-পায়ে কোনো শক্তি ছিল না। একদমই নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। পরে ছেলেটা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডাক্তাররা টেস্ট করে দেখে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে। এখানে তিনদিন ধরে ভর্তি আছি। এখন একটু কমেছে।’

বাগেরহাট বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

চিকিৎসকরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ও বর্ষার শেষে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে এবং সামনের মাসে এই প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটা জায়গায় ডেঙ্গু প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনায় এডিস মশা যেন জন্ম নিতে না পারে, সেজন্য চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা, জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

নাহিদ ফরাজী/এসআর/এএসএম