দীর্ঘ দেড় যুগ পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন বগুড়ার ব্যবসায়ীরা। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক (২০২৬-২৮) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কোনো বিরতি ছাড়াই এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

জানা গেছে, ভোটের প্রথম এক ঘণ্টাতেই শতাধিক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১২ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮ জন প্রার্থী। মোট এক হাজার ৭৭ জন ভোটার তিনটি আলাদা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে- বিএনপি সমর্থিত ‘বাদল-হিরু প্যানেল’ এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘সেলিম-এরশাদ প্যানেল’। এর বাইরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনি মাঠে লড়ছেন।

চেম্বারের সভাপতি পদে দুই প্যানেলের শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হচ্ছে। বাদল-হিরু প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এমএসএম আতিকুর রহমান বাদল ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীক এবং সেলিম-এরশাদ প্যানেলের মো. সেলিম রেজা ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সহসভাপতি পদের ৪টি প্রতীকের বিপরীতে বাদল-হিরু প্যানেল থেকে মো. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু (আনারস), সেলিম-এরশাদ প্যানেল থেকে মো. এরশাদুল বারী এরশাদ (হারিকেন) ও মো. মামুনুর রশিদ মামুন (মোমবাতি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহামুদুর রহমান শিপন (খেজুরগাছ) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ছাড়া পরিচালক পদের ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই প্যানেলের ১৮ জন এবং ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাদল-হিরু প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আতিকুর রহমান বাদল বলেন, আশা করি ভোটারদের ৯৫ শতাংশ উপস্থিতি হবে। আগামীতে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি ব্যবসায়ী বান্ধব ও সুন্দর চেম্বার গঠন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে সেলিম-এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. সেলিম রেজা বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ায় সবার মাঝে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটারদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি, তাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হলে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

এদিকে শনিবার ভোটারদের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সংক্রান্ত কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আছিয়া খাতুন জানান, আইডি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে বগুড়া চেম্বার অব কমার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাচনি সমস্ত কার্যক্রম ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভোটারদের সুবিধার্থে বিকল্প উপায়ে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জটিলতা এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, বগুড়া চেম্বারে সর্বশেষ সরাসরি ভোট হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় বিনা ভোটে কমিটি গঠিত হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রথমে প্রশাসক এবং পরবর্তীতে জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

এসজেডএইচ/এএসএম