বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের মুঠোফোন হারানোর জেরে দুই ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার মারধরের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগেই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত দুই শিক্ষক।
অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন আতিকুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন। তাঁরা উপজেলার একটি মাদ্রাসায় কর্মরত। অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ওই দুই ছাত্র মাদ্রাসাটির আবাসিক ছাত্র। তাঁদের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায়।
ঘটনার প্রসঙ্গে মাদ্রাসাটির একাধিক ছাত্র জানায়, সম্প্রতি শিক্ষক আতিকুল হাসানের মুঠোফোন হারিয়ে যায়। এ জন্য ওই দুই ছাত্রকে সন্দেহ করা হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আতিকুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন গত রোববার (২৮ জুন) রাতে ওই দুই ছাত্রকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে।
এক শিশুর স্বজন বলেন, গতকাল দুপুরের পর ওই শিশুদের নির্যাতনের সংবাদ পান তাঁরা। অসুস্থ অবস্থায় ওই দুই শিশুশিক্ষার্থী আবাসিক মাদ্রাসার বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গতকাল বিকেলে তাদের বাড়ি আনা হয়।
শিশুশিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানান। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে তাঁরা গতকাল ওই মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ করেন।
শেরপুর থানা–পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওই দুই ছাত্রের ওপর এমন নির্যাতনের খবর পেয়ে গতকাল ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। ওই দুই শিশুর সঙ্গেও কথা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকেরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








