বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড না পাওয়ায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। পরীক্ষা শুরুর দিন বৃহস্পতিবার সকালে এসে তারা প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন। কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিনি গত বুধবার থেকে পলাতক রয়েছেন।

কলেজ সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন, কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। তিনি মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন। গত ২৪ জুন কলেজের তিন বিভাগের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হয়। বুধবার বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাগজপত্র না পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর শাওনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ ও হতাশ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, কলেজ কর্র্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও এক কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা যদি অন্তত দু’দিন আগেও বিষয়টি জানাতো তাহলে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করা যেত।

অপরদিকে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। বুধবার বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি প্রবেশপত্র পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বিফল হন। সুমাইয়া অভিযোগ করেছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে প্রবেশপত্র না পেয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেন না। এ প্রসঙ্গে চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলীমুর রাজি জানান, মেয়েটি খুবই ভালো শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থী আরেকজনের দেখে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে গিয়ে ভুল করেছে। পরীক্ষা দু’দিন আগেও জানতে পারলে ছাত্রীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।