ফাতেমা তুজ জোহরা কুমু

আজকের দিনে অনেক অভিভাবকই চিন্তিত থাকেন যে তাদের সন্তানরা বই পড়তে চায় না। মোবাইল, ট্যাব বা টিভির প্রতি আকর্ষণ বইয়ের প্রতি আগ্রহকে কমিয়ে দিচ্ছে। অথচ বইপড়া শিশুদের কল্পনাশক্তি, ভাষা দক্ষতা এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। তাই অভিভাবকদের উচিত বইপড়াকে আনন্দদায়ক অভ্যাসে পরিণত করা।

কেন বইপড়া জরুরি

বইপড়া শুধু জ্ঞান বাড়ায় না বরং শিশুদের চিন্তা-ভাবনা প্রসারিত করে। গল্পের মাধ্যমে তারা নতুন জগৎ আবিষ্কার করে, চরিত্রের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং জীবনের নানা শিক্ষা গ্রহণ করে।

বইপড়াকে আনন্দদায়ক করার কৌশল

নিয়মিত সময় নির্ধারণ করুন

ঘুমানোর আগে, বিকেলের নাস্তার পরে বা রাতের খাবারের পর বইপড়ার সময় বের করুন। এটি একটি রুটিনে পরিণত হলে বাচ্চারা বইপড়াকে অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করবে। প্রতিদিন বই চোখে পড়লে পড়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়। শিশুদের বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন ছোটবেলা থেকেই।

আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন

টিভি ও মোবাইল থেকে দূরে একটি শান্ত জায়গায় পড়ুন। প্রয়োজনে কাছের লাইব্রেরি বা বুক ক্যাফেতে যেতে পারেন। সুযোগ থাকলে শিশুর ঘরে ছোট্ট একটি বইয়ের কোণ তৈরি করুন।

আরও পড়ুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘অআকখ’র বইপড়া ও সাহিত্য আড্ডা

নিজে পড়ে শেয়ার করুন

সন্তানকে বই পড়তে বলার আগে নিজে পড়ুন এবং বইটি আপনার কেন ভালো লেগেছে তা শেয়ার করুন। এতে তারা বইয়ের প্রতি আগ্রহী হবে।

পছন্দের বই বেছে নিতে দিন

যদি কোনো বই তাদের ভালো না লাগে, অন্য বই দিন। বইপড়ার মেজাজ না থাকলে পড়া বন্ধ করুন এবং পরে আবার চেষ্টা করুন।

লাইব্রেরি ভিজিট করুন

সন্তানকে নিয়ে নিয়মিত লাইব্রেরিতে যান এবং তাদের জন্য আলাদা লাইব্রেরি কার্ড বানিয়ে দিন। এতে তারা বইয়ের প্রতি আরও উৎসাহী হবে।

বাড়িতে বইয়ের সেলফ তৈরি করুন

বই সংগ্রহ করুন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। বাচ্চাদের জন্য বইকে সহজলভ্য করে তুলুন, খেলনা বা গ্যাজেটের মতোই বই হাতের কাছে থাকলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই বইয়ের দিকে আকৃষ্ট হয়। খেলনার তাকের পাশে বা টেবিলে বই সাজিয়ে রাখুন।

পড়ার জন্য চাপ দেবেন না

ভালো পাঠক হওয়ার দরকার নেই, মন থেকে পড়লেই যথেষ্ট। চাপ দিলে বইপড়া আনন্দের বদলে বোঝা হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

‘আমি এখন বড় ভাই’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

মজাদার করে তুলুন

বইপড়াকে পাঠ নয়, আনন্দ হিসেবে উপস্থাপন করুন। প্রশ্ন না করে গল্প নিয়ে আলাপ করুন। শুরুতে মজার মজার গল্পের বই কিনে দিন। বয়স অনুযায়ী বই বেছে দিন। মাঝে মাঝে নতুন বই যোগ করুন। যাতে আগ্রহ বজায় থাকে।

নিজে থেকে বই দেখতে উৎসাহ দিন

সন্তানকে বই নিয়ে ঘুমাতে দিন। পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তে দিন। এতে বইয়ের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

বন্ধুর মতো আচরণ করুন

সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এতে তারা বইপড়াকে আরও উপভোগ করবে।

বইপড়া কোনো চাপ নয়—এটি আনন্দের অভ্যাস। ধীরে ধীরে বাচ্চারা নিজেরাই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করবে। অভিভাবকরা যদি ধৈর্য ধরে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। তবে বই হবে তাদের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী।

লেখক: আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেটর এবং সিইও, অফস্প্রিং বাংলাদেশ।

এসইউ