বইয়ের মলাট খুললেই যেন এক নতুন জগতের হাতছানি। সেই রূপকথা, রোমাঞ্চ আর জ্ঞানের রঙিন দুনিয়ায় শিশুদের মন ডুবিয়ে দিতে নোয়াখালী বন্ধুসভা চলতি বছরজুড়ে কাজ করে চলেছে এক অনন্য ব্রত নিয়ে। পাঠ্যবইয়ের বাঁধাধরা গণ্ডি পেরিয়ে শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে, তাদের হাতে গল্পের বই তুলে দিতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনের পাঠ শেখাতে নিয়মিত নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বন্ধুরা।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বানদত্ত বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসেছিল এক আনন্দঘন আসর। ২৭ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় গড়ে উঠুক আগামীর প্রজন্ম’ শিরোনামে শিশুদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পাঠাভ্যাসবিষয়ক এক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে নোয়াখালী বন্ধুসভা। বিদ্যালয়টির ১০৫ শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। একদিকে ছিল বই পড়ার আনন্দ নিয়ে গল্প-আড্ডা, অন্যদিকে ছিল সুস্থ থাকার ব্যবহারিক পাঠ।

নোয়াখালী বন্ধুসভার উদ্যোগে শিশুদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পাঠাভ্যাসবিষয়ক ক্যাম্পেইন।

শিশুদের খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় শেখানো হয় কীভাবে প্রতিদিন নিয়ম মেনে হাত ধুতে হয়, দাঁত ব্রাশ করতে হয় এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ডায়রিয়া কিংবা পানিশূন্যতা দেখা দিলে কীভাবে সঠিক নিয়মে খাওয়ার স্যালাইন তৈরি করে খেতে হয়, তা–ও হাতে-কলমে দেখিয়ে দেওয়া হয় তাদের।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গল্পের বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে নোয়াখালী বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ বলেন, ‘একটি শিশুর মনোজগৎকে বিকশিত করতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। চলতি বছর নোয়াখালী বন্ধুসভা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই আমাদের শিশুরা বইয়ের আলোয় যেমন নিজেকে সমৃদ্ধ করবে, তেমনি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন থেকে আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ হয়ে গড়ে উঠবে।’

স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব কুমার সিং বলেন, ‘সুস্থতা এবং সুস্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং বাড়ির আঙিনা ও বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এতে পড়াশোনাতেও সুন্দরভাবে মন বসবে।’

নোয়াখালী বন্ধুসভার উদ্যোগে শিশুদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পাঠাভ্যাসবিষয়ক ক্যাম্পেইন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যবিধির নানা দিক তুলে ধরে টিম অব ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও নোয়াখালী বন্ধুসভার বন্ধু দুর্জয় ভৌমিক বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাঁচতে হলে সব সময় মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। বাড়ির আঙিনায় ময়লা বা কোনো ধরনের পরিষ্কার পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। পাশাপাশি খাওয়ার আগে ও পরে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে এবং দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এতে দাঁত ও স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকবে।’

আলোচনা পর্ব শেষে শিশুদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ ছড়িয়ে দিতে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রাণবন্ত স্বাস্থ্য ও জ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। কুইজে সেরা ১০ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় মজার মজার গল্পের বই এবং গ্রিন ইকো পরিবেশবান্ধব কাগজের তৈরি কলম। এ ছাড়া উপস্থিত সব শিক্ষার্থীর মধ্যে খাওয়ার স্যালাইন বিতরণ করা হয়।

সভাপতি, নোয়াখালী বন্ধুসভা