বাজারে নকল ডিম, প্লাস্টিকের চাল আর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

তিনি বলেন, এই বিষাক্ত খাদ্যের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শিশুরা আজ সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। মৌসুমি ফলেও ফরমালিন দেওয়া হয়।

বুধবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের প্রতি খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম জামাল।

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, বর্তমানে সারাদেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, শাক-সবজি ও শিশুখাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক, ফরমালিন ও ক্ষতিকর রঙের মিশ্রণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাজারে মিলছে নকল ডিম, প্লাস্টিকের চাল আর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল। এই বিষাক্ত খাদ্যের কারণে দেশে ক্যানসার, কিডনি বিকল এবং লিভারের মারাত্মক রোগ এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শিশুরা আজ সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। মৌসুমি ফলেও ফরমালিন দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আইন থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের আজ নিরাপদ ভাত-মাছ খাওয়ার কোনো উপায় নেই।

রফিকুল ইসলাম বলেন, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া আর মানুষকে নীরবে হত্যা করা একই কথা। তাই আমার সুনির্দিষ্ট দাবি- জাতীয় এই সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা হোক এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হোক।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী খাদ্যে ভেজাল বন্ধে মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিকল্পনা সম্পর্কে সংসদে একটি সুস্পষ্ট বিবৃতি দেওয়ার জন্য আমি খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এমওএস/বিএ