ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের বিচার না পেয়ে তার বাবা আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবাদ করায় বখাটেরা নির্যাতন শুরু করে তার ওপর। একপর্যায়ে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেওয়া হয়। এসব নির্যাতন ও অপমান সহ্য না করতে পেরে রোববার তিনি সবার অগোচরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার আটজনের নাম উল্লেখ করে বালিয়াডাঙ্গী থানা মামলা করেছেন স্কুলছাত্রীর মা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বখাটেদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় তারা মেয়েটির বাবার ওপর নির্যাতন শুরু করে। বখাটেরা প্রায়ই হুমকি দিত। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি সাইফুলসহ আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

মামলার আসামিরা হলো-মো. সাইফুল ইসলাম, তার ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানি, মো. মানিক হোসেন, মো. মুক্তিয়ার মিয়া ওরফে মুক্তা, মো. ফাহিম উদ্দিন, মো. ইমরান আলী, অটোচার্জার চালক রেজাউল ইসলাম ও ফাইমা বেগম।

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতন : মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিভন্ন সময় সে কুপ্রস্তাব দিত। এসব প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে অপহরণের নীলনকশা করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে গত ২৫ জুন সকালে সাইফুলসহ বখাটেরা একটি অটোচার্জারে করে তুলে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। ঠাকুরগাঁও রোডের কাছাকাছি এলাকায় নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে মেয়েটির স্বাক্ষর নেয়। পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তার ওপর পাশাবিক নির্যাতন চালায়। কৌশলে মুক্ত হয়ে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে ঘটনা জানায়।

প্রতিবাদ করায় বাবার ওপর হামলা, হুমকি : মেয়ের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে সাইফুলের বাড়িতে যান তার বাবা। কিন্তু বখাটেরা উলটো হুমকি দিয়ে বলে, মেয়েটির স্বাক্ষর দিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এখানেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বখাটেরা। ২ জুলাই বিকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় গেলে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় তারা। সাইফুল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মেয়ের বাবার ডান পায়ের হাঁটু গুড়িয়ে দেয় এবং মানিক হোসেন পিঠ ও কোমরে মারাত্মক আঘাত করে। মেয়েটির বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাইফুলের ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানি তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, শিগ্গিরই তোমার মেয়েকে আমাদের বাড়ি নিয়ে আসব। বাধা দিলে তোমার লাশ গুম করে ফেলা হবে।

মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই বাবা। এসবের বিচার না পেয়ে তিনি ক্ষোভে অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি ইন্সপেক্টর মো. বুলবুল ইসলাম জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গণ্য করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।