বাকিতে মোটর পার্টস না দেওয়ায় মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকিদেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিলন সোমবার (২০ জুলাই) রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, বিতর্কিত শাহিন তার দলেরই যুগ্ম সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযোগে মিলন মিয়া উল্লেখ করেন, শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শাহিন তার দোকানে এসে বাকিতে মোটর পার্টস চান। তিনি বাকিতে মাল দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দিয়ে চলে যান। পরদিন আবার দোকানে এসে একইভাবে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে শাহিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করবো। তুই যদি বেশি কথা বলিস বা আমাকে বাকিতে মোটর পার্টস না দিস, তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলবো। তোর লাশ গুম করে দেবো’।

আরও পড়ুন

অসুস্থ ছাত্রদল নেতাকে সহায়তা করে বিপাকে কৃষকদল নেতা

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় শাহিন প্রকাশ্যে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ব্যবসায়ী মিলন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি রোববার (১৯ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হলিগার্ডেন মার্কেটে অবস্থিত ইস্রাফিল মোটরসে ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

এ ঘটনার জেরে সোমবার জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন সই করা এক চিঠিতে শাহিনকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন

খাবার নিয়ে অভিযোগ, শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে দুই ছাত্রদল নেতার মারধর

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকদল নেতা মো. শাহিন ব্যবসায়ী মিলনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সজল আলী/এসআর/জেআইএম