৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ‌গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন

শুনানিতে হরিদাস চন্দ্র / ভক্তদের টাকায় মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু বলার নেই

হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপীনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে। তার জন্ম ১৯৯১ সালে। তিন ভাই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি ভারতে যান। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।

আদালতের পিপি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকার একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে হরিদাস চন্দ্রকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে আদালতে আবেদন করে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

গাইবান্ধার হরিদাসের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক ৯.৩৫ কোটি টাকার লেনদেন

এর আগে গত ১২ জুলাই অর্থ পাচারের মামলায় হরিদাসকে গ্রেফতার করে সিআইডি। অভিযোগ রয়েছে, তার ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরোনো এসি মেরামতের কাজ শুরু করেন হরিদাস। ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক তরুণীকে বিয়ে করেন।

আরও পড়ুন

ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই হরিদাস হয়ে যান তৌহিদ ইসলাম

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় চাকরি, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। এ অভিযোগে ২০১৮ সালে তাকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব।

চলতি বছরের জুনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র। পরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ স্থগিত ঘোষণা করে।

হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম