৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণ করার ঘোষণা দেওয়া আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণীকে প্রতারণার মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে ময়মনসিংহ আদালতের বিচারক।
হরিদাস চন্দ্র তরণী গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপীনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের (অর্থ ও ঋণ) বিচারক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হরিদাস চন্দ্র তরণীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের (অর্থ ও ঋণ) পিপি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল হরিদাস চন্দ্র তরণীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিপি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, ঢাকা জেলার একটি মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ একটি প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়।
গত ১২ জুলাই রাতে সিআইডি অর্থ পাচার মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী গ্রেপ্তার করে। তার ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ১৬ জুলাই কারাগারে পাঠানো হয়।
২০১০ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরনো এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন হরিদাস। গোয়েন্দা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক তরুণীকে বিয়ে করেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কথিত ব্যবসায় সক্রিয় থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গেও তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। এমনকি শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের ছবি যুক্ত করে প্রতারণা করেন তিনি। চাকরি, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করায় ২০১৮ সালে র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল।
চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস। তবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে জুনের শেষভাগে এই মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয় স্থানীয় ‘শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ কমিটি।
এবার হুন্ডি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে শেষ রক্ষা হলো না বিতর্কিত এই হরিদাসের।







