পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে অন্যতম আলোচিত মুহূর্তের কেন্দ্রে ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচ। ম্যাচ শেষে তিনি সেই বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন, যে সিদ্ধান্তে পর্তুগাল রাউন্ড অব ১৬-এ ওঠার টিকিট নিশ্চিত করে।
ইনজুরি সময়ে জাসকো জিভার্দিওল গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তবে ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, তার আগে মাতানোভিচের বলে স্পর্শের ফলে মারিও পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে চলে গিয়েছিলেন। ফলে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে পারত এমন গোলটি আর গণ্য হয়নি, বাতিল করা হয়।
ম্যাচ শেষে মিশ্র সাক্ষাৎকার অঞ্চলে মাতানোভিচ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয়েছে বলটি আমার চুলে খুব সামান্য স্পর্শ করেছিল। আমি রেফারিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারণ আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি বল ছুঁয়েছিলাম কি না। তিনি আমাকে বলেন, বলে একটি চিপ রয়েছে, সেটি খুব সামান্য স্পর্শও শনাক্ত করতে সক্ষম। তাই অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।’
হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচের পর সঠিক ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুব ভালো খেলেছি এবং আরও ভালো ফল পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। পেনাল্টির ঘটনাটি এখনও দেখিনি, তবে যদি সেটিও সঠিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে..., তিনটি গোল, অফসাইড, পোস্টে বল লাগা- আজ আমরা সত্যিই ভিষণ দুর্ভাগা ছিলাম।’
বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ইনজুরি সময়ের ১২তম (৯০+১২) মিনিটে। বক্সে ভেসে আসা এক ক্রসে মাতানোভিচ হেড করেন। এরপর বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে পাসালিচের কাছে যায়। পরে পর্তুগালের রুবেন নেভেস বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সেটি নিজের জালেই জড়িয়ে ফেলেন।
গোল হওয়ার পরই ভিএআর মাতানোভিচের বলে স্পর্শের বিষয়টি পরীক্ষা করে। কারণ, সেই স্পর্শ থেকেই নতুন আক্রমণের সূচনা হয়েছিল এবং পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ প্রযুক্তি মাতানোভিচের স্পর্শ শনাক্ত করে। সম্প্রচারে দেখানো গ্রাফে হেড করার মুহূর্তে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে তিনি বল স্পর্শ করেছিলেন- যদিও টেলিভিশনের ফুটেজে সেটি পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ফিফা ব্যাখ্যা দিয়েছে, ‘এই সেন্সরগুলো বলের সঙ্গে যেকোনো ক্ষুদ্র স্পর্শ শনাক্ত করতে পারে। সম্প্রচারে এটি 'হার্টবিট গ্রাফ'-এর মতো একটি চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়, যা ম্যাচ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে অভূতপূর্ব তথ্য সরবরাহ করে।’
ঘটনাটি ব্যতিক্রমী হওয়ায় প্রধান রেফারি নিজে ভিএআর মনিটরে গিয়ে রিপ্লে ও প্রযুক্তিগত গ্রাফ পরীক্ষা করেন। এরপর তিনি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
এই জয়ে পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে। পরবর্তী পর্বে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
আরআর/আইএইচএস/








