হঠাৎ ব্যাংকে ঢুকে সোজা ম্যানেজারের কক্ষে প্রবেশ। কোনো কিছু না ভেবেই বসে পড়লেন খোদ প্রধান কর্মকর্তার চেয়ারে, তাও আবার সম্পূর্ণ খালি গায়ে! শুরু করলেন অসংলগ্ন কথাবার্তা। নিজেকে দাবি করলেন, ‘আমি এই দেশের সিও (প্রধান কর্মকর্তা), অনেক বড় অফিসার।’
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের চৌরঙ্গী বাজার শাখায় এ ঘটনা ঘটে। যুবকের এমন কাণ্ড দেখে স্তব্ধ হয়ে যান ব্যাংকের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও গ্রাহকরা। এমন নাটকীয় ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
জানা গেছে, ওই যুবকের নাম ইয়াসিন আলী। সকালে ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলাকালে তিনি প্রবেশ করে শার্টবিহীন অবস্থায় ম্যানেজারের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘এই ব্যাংকে আমার কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আমি বাড়ি ঠিক করব এবং নতুন মোটরসাইকেল কিনব।’ সে সময় ?নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বুঝিয়ে চেয়ার থেকে নামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ব্যাংক সূত্র জানায়, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হয়। পুলিশ এসেও তাকে প্রথমে দমাতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর বিশেষ কৌশলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লবী রানী রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইয়াসিনকে এলাকার সবাই চেনেন এবং তাকে ভীষণ ভয় পান। এর আগে তিনি একজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। যাকে তাকে যখন তখন আক্রমণ করে বসেন। এজন্য ভয়ে তাকে কেউ কিছু বলার সাহস পান না। ধারণা করা হয়, তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। হরিপুর থানার পরিদর্শক শরিফ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হেফাজতে ইয়াসিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত না কি পুরোপুরি মানসিক অসুস্থ, তা খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে।








