বলিউডের নতুন চলচ্চিত্র ‘চৌহান’ নিয়ে কাশ্মীরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রে কাশ্মীরের ছররা গুলির শিকার মুসলিম ভুক্তভোগীদের উপহাস করার অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ছররা গুলিতে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি কাশ্মীরি আংশিক বা সম্পূর্ণ অন্ধ হয়েছেন। চলচ্চিত্রের টিজার প্রকাশের পর এই ভুক্তভোগীদের পুরোনো ক্ষত আবার জেগে উঠেছে।
মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রটিতে বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগনকে একজন ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখা গেছে। ট্রেলারে তার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীরা। সেখানে অজয় দেবগনের নেপথ্য কণ্ঠস্বর অতীতের ভারতীয় সরকারগুলোকে কটাক্ষ করে। তিনি বলেন, আগের সরকারগুলো বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর না হয়ে ‘শত্রুদের তোষামোদি’ করেছে। চলচ্চিত্রে আরও বলা হয়, ছররা গুলি কেবল ‘সীমিত ক্ষতি’ করতে পারে। চলচ্চিত্রটি এ সংলাপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। ১০ বছর আগে ছররা গুলির আঘাতে দুই চোখই হারানো ২৮ বছর বয়সি ফিরোজ আসলাম বলেন, ‘চলচ্চিত্রের নির্মাতারা যদি কেবল একটি দিনের জন্য নিজেদের চোখ বেঁধে রাখতেন, তবেই তারা বুঝতে পারতেন দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা কেমন।’ আসলামের বুকে ও চোখে আজও শত শত লোহার বল আটকে রয়েছে।
২০১৬ সালে ছররা গুলির শিকার হওয়া আরেক যুবক মাসরুর খালিদ জানান, অস্ত্রোপচারের পেছনে ২০ লাখ রুপি খরচ করেও তার দৃষ্টিশক্তি ফেরানো যায়নি। তার মুখে এখনো ৩০০-রও বেশি ছররা গুলি রয়ে গেছে। এ চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তার পরিবার এখন চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে। মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট সায়বা ভার্মা বলেন, চলচ্চিত্রে রক্তাক্ত চোখের কাশ্মীরি পুরুষদের পশুর মতো চিৎকার করতে দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কাশ্মীরিদের বিপজ্জনক চরিত্র হিসাবে উপস্থাপনের পুরোনো কুসংস্কারকে জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’ (সিএসওএইচ)-এর প্রধান রাকিব হামিদ নায়েক আল জাজিরাকে বলেন, ‘২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ঘৃণাই একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং অনেক বলিউড পরিচালক এর সুবিধা নিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘তারা জানে যে এই ধরনের সিনেমা ভালো চলবে এবং তারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও পাবে। তাই এটি কার্যকরভাবে একটি ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের নিয়ে উপহাস করার ক্ষেত্রে তাদের বিবেক খাটানোর কোনো বালাই নেই।’ এই চলচ্চিত্রগুলো কাশ্মীর এবং প্রতিবেশী মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বৈরিতার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে ব্যবহার করে ভারতের ২০ কোটি মুসলমানকে নিশানা করে। ২০১৯ সালে মোদির জাতীয়তাবাদী সরকার কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা বাতিল করে এবং অঞ্চলটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। নায়েক বলেন, এরপর থেকে বলিউড সরকারের এই পদক্ষেপগুলোকে যৌক্তিক প্রমাণ করার জন্য ‘আর্টিকেল ৩৭০’, ‘বারামুলা’ এবং ‘কাশ্মীর ফাইলস’-এর মতো একগুচ্ছ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে, যেখানে চেনা ইসলামভীতি এবং কাশ্মীরি মুসলমানদের ব্যঙ্গচিত্র হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সিনেমাগুলো মূলত বিজেপির নীতিকে সঠিক দেখানোর জন্য তৈরি।








