পঞ্চগড়ের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে বাদাম চাষ। জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার পতিত ও বালুময় জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বাদাম চাষ করছেন। একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমি এখন লাভজনক কৃষিজমিতে পরিণত হয়েছে, যা বদলে দিচ্ছে হাজারো কৃষকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রোপণ করা বাদাম ইতিমধ্যে অধিকাংশ কৃষক সংগ্রহ করেছেন। তবে বাজারে আরও ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই উৎপাদিত বাদাম ঘরে সংরক্ষণ করে রাখছেন।চাষিরা জানান, ফসল তোলার আগে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় উৎপাদন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিকভাবে এবার ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত বাদাম পাওয়া গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৩,৫০০ থেকে ৪্,৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।লাভজনক মূল্য ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে আগামী মৌসুমে বাদাম চাষ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত বাদাম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বাদাম চাষের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, ফসল সংগ্রহের পর গাছের অবশিষ্টাংশ উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়। এতে পরবর্তী ফসলের উৎপাদন ব্যয় ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসে।কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পঞ্চগড়ে বাদামভিত্তিক তেল উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলা গেলে এই অঞ্চলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।/
রাজনীতি
বালুময় জমিতে বাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা

শেয়ার করুন







