হামে মৃত্যুর মিছিলে ছোটমনি নিবাসের ৫ শিশু
মাহিকে যখন রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৪ মাস। মাথা ছিল অস্বাভাবিক বড়, ঠিকমতো নড়াচড়াও করতে পারত না। ভাগ্যক্রমে আশ্রয় মেলে রাজধানীর আজিমপুরের সরকারি ছোটমনি নিবাসে। নিউমোনিয়া, ফুসফুস, যকৃৎ ও মস্তিষ্কের জটিলতায় আক্রান্ত শিশুটি ওই বয়সেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল। সুষ্ঠু পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোলেও অবশেষে হাম আক্রান্ত হয়ে যেতে হয় আইসিইউ পর্যন্ত। সেখানেই গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়ে মারা যায় অনাথ ১০ মাসের শিশুটি।
ছোটমনি নিবাস সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় মাহিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতপ্রায় শিশুটিকে তারাই আজিমপুরের ছোটমনি নিবাসে পাঠায়। সেখানে কয়েক মাস চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিল মাহি। উঠে বসতেও শিখেছিল সে। কিন্তু হামে আক্রান্ত হওয়ার পর তার পুরোনো অসুখগুলো আবার ফিরে আসে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন আরও কিছু জটিলতা।
নিবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, গত মে মাসের শুরুতে আরও কয়েকটি শিশুর সঙ্গে মাহিও হামে আক্রান্ত হয়। সে সময় তাকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ২ মাস চিকিৎসাধীন ছিল মাহি। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হয়েছিল সে। তার ফুসফুসের অর্ধেক সাদা হয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া যকৃৎ ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হলে গত ৫ জুলাই তাকে হাসপাতাল থেকে নিবাসে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে ৬ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাহিই প্রথম নয়। গত আড়াই মাসে আজিমপুর ছোটমনি নিবাসের আরও চারটি শিশু হাম ও হাম পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। গত ৩০ এপ্রিল মারা যায় চৌদ্দ মাসের আরিসা। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে গত ৫ মে মারা যায় মেহেদী। তার বয়স হয়েছিল মাত্র পাঁচ মাস। ৩১ মে মারা যায় এক বছরের খুশবু। ২৩ জুন মারা যায় তিন মাস বয়সী মুনা।
ছোটমনি নিবাসে মা-বাবার আদরবঞ্চিত নবজাতক থেকে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত পরিত্যক্ত ও পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের লালন-পালন করা হয়। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে ছোটমনি নিবাস রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান শাখা এসব নিবাস পরিচালনা করে।
অধিশাখার পরিচালক সমীর মল্লিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজিমপুর নিবাসের মাহি নামের শিশুটি মারা গেছে। এই নিয়ে সেখানে পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হলো। বাকি শিশুরা সুস্থ আছে।
আজিমপুর ছোটমনি নিবাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৩৫টি শিশু রয়েছে। এ বছর সেখানকার ১৮টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল।








