টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের পর বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আজ রোববার ভোর থেকে আবারও টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। পানিবন্দী মানুষের এখন প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার। বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও ঠিকঠাকমতো পাচ্ছেন না পানিবন্দী ভুক্তভোগীরা।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বাহারছাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা এলাকায় ভিন্ন জায়গা থেকে আসা ত্রাণবাহী বেশ কিছু গাড়ি লক্ষ করা যায়। বন্যার পানিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। যে কারণে ভুক্তভোগীদের কাছে ত্রাণগুলো পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সকাল থেকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে একই ব্যক্তিদের বারবার ত্রাণ পেতে দেখা গেছে।

বাঁশখালী উপকূলীয় ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে উপজেলার ছনুয়া, শেখারখীল, পূর্ব পুইছড়ি, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সরল ইউনিয়ন মিনজিতলা বৈলছড়ি, কাথারিয়া, শীলকূপ, গণ্ডামারা, বাহারছড়া ও খানখানাবদ ।

বাহারছাড়ার ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম জানান, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাহারছাড়া এলাকা। ইউনিয়নে এ পর্যন্ত শতাধিক মাটির তৈরি ঘর পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। পুকুরের মাছ, বীজতলাসহ নানা ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

খানখানাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহিদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা কমলেও আজ ভোর থেকে আবার অতিবৃষ্টি হওয়ার কারণে এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে উপকূলের একমাত্র বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। আজ পর্যন্ত ৮০ টন চাল ও তিন হাজার পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ করেছি। ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।’