চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি পরিবারের জন্য নির্মিত নতুন ঘর আগামী রোববার (৯ আগস্ট) হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, নির্মাণাধীন ঘর, হেলিপ্যাড ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বাঁশখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় এবং মাটির ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১০০টি নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতিই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বড় বাধা: অর্থ উপদেষ্টা

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং নতুন করে ঘর নির্মাণে অক্ষম এমন ১০০টি পরিবারকে নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৮ ফুট × ১২ ফুট। দুটি কক্ষের পাশাপাশি পাঁচ ফুট × পাঁচ ফুট আকারের একটি সংযুক্ত শৌচাগার রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন দিয়ে ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ঘরের নকশা ও ব্যয়ের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণের মান নিশ্চিত করতে পৃথক তদারকি দল গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় যৌথভাবে কাজটি পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ঘর নির্মাণ করাই নয়, উপকারভোগীরা যেন দীর্ঘদিন নিরাপদে সেখানে বসবাস করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে এক স্বামীহারা নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে ১০০টি পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, প্রথমে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হলেও বন্যায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং উপযুক্ত খোলা জায়গার অভাবে শেষ পর্যন্ত বাহারছড়া এলাকাকেই নির্বাচন করা হয়।

তিনি বলেন, মঞ্চ, প্যান্ডেল, হেলিপ্যাড ও নিরাপত্তাসহ সব প্রস্তুতি শনিবারের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসা, হাটহাজারীতে কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। হাটহাজারীতে ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও অনুদান বিতরণ করা হবে। পরে তিনি চট্টগ্রাম নগরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

এমআরএএইচ/এমআরএম