বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের, বিশেষ করে বম, লুসাই, পাংখোয়া সম্প্রদায়ের অত্যন্ত প্রাচীন এবং জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য বাঁশের নাচ। ভারতের মিজোরামেও পরিবেশিত হয় বাঁশনৃত্য। মূলত বমদের দ্বারাই নাচটির প্রচলন হয়েছে। বম ভাষায় এই নাচকে বলা হয় রোখা ত্লা। এর অর্থ বাঁশের মাঝে পা ফেলে শোকের নাচ। বম নৃত্যশিল্পীরা করুণ সুরের গানের সঙ্গে এই নাচ পরিবেশন করেন। সাধারণত তরুণেরা গানের সুরে জোড়া বাঁশের মাধ্যমে বাদ্যের তাল তোলেন। তরুণীরা সেই তালে তালে জোড়া বাঁশের ফাঁকে পা ফেলে নাচতে থাকেন। অন্তত চার থেকে আটজন নৃত্যশিল্পীর প্রয়োজন হয় এই নাচে। অপঘাত আর প্রসবজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির সৎকার না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ঘরের উঠানে এই নৃত্য করা হয়। স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে কিন্তু এই নাচ পরিবেশিত হয় না। আধুনিককালে ধীরে ধীরে বাঁশনৃত্য উৎসবের নাচেও পরিণত হয়েছে। ফলে শোকগাথা ছাড়াই মনোরঞ্জনের জন্য পরিবেশিত হয়ে থাকে এটি।
ছবি: মোহাম্মদ শাহজাহান, উইকিপিডিয়া








