অন্তরা হক

জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আলোচিত কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, নীরবতা, মৃত্যু এবং একধরনের অন্তঃদর্শন গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ কবিতা ‘বনলতা সেন’।

সৃষ্টিলগ্ন থেকেই পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘কে এই বনলতা সেন?’ যার বর্ণনা এত সুন্দর করে দিয়েছেন কবি। কিন্তু এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে কবিতাটি লিখে সে সময়ে ব্যাপক হইচই ফেলে দিয়েছিলেন কবি। সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছিলেন। কবিতাটি সর্বকালের সেরা কবিতা হিসেবে বাংলা সাহিত্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

‘বনলতা সেন’ কবিতাটি এই বইয়ের নামকবিতা। কাব্যগ্রন্থটির প্রতিটি কবিতাই অর্থবোধক, সময়োপযোগী, কালোত্তীর্ণ ও সার্থকতার মানদণ্ডে শতভাগ উত্তীর্ণ। ফলে সবার প্রিয় কবিতা হয়ে ওঠে। এই কবিতায় কবি নান্দনিক সৌন্দর্যের দারুণ বর্ণনা দিয়েছেন বনলতা সেনের। বইটিতে কবি খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন

বই আলোচনা / অকায়শাস্ত্র: আপন সত্তার অনুভূতি

‘বনলতা সেন’ ১৯৪২ সালে প্রকাশিত তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বইটিতে ৩৩টি কবিতা আছে। বইয়ের প্রতিটি লেখায় প্রকৃতি, নীরবতা, মৃত্যু গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বইয়ের নামকবিতাটি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রহস্যময় প্রেমের কবিতা।

কবির আবির্ভাব যুদ্ধ বিধ্বস্ত জরাজীর্ণ মলিন পৃথিবীতে। তাই তো ‘বনলতা সেন’ হচ্ছে প্রকৃতি বা নারীর প্রতীক। জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ নারী আর প্রকৃতির কাছে শান্তি খুঁজে পায়। তাই কবিতাটি বাঙালির মনে জায়গা করে নিয়েছে। জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, ‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,/ সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে...’

পরিব্যাপ্ত ভ্রমণ তাঁকে দিয়েছে অপরিসীম ক্লান্তি। এই ক্লান্তিময় অস্তিত্বের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য, শান্তির সুবাতাস নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন নাটোরের বনলতা সেন নামের এই রমণী। যাকে পেয়ে কবি যেন নতুন জীবনের সন্ধান লাভ করেন। কবি বনলতা সেনের চুলকে তুলনা করেছেন ‘অন্ধকার বিদিশার নিশার সঙ্গে’।

আরও পড়ুন

বই আলোচনা / অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী: নারীবাদের দ্বন্দ্বময় সংলাপ

এ ছাড়াও ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের কিছু উক্তি পাঠককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে:

  • এতোদিন কোথায় ছিলেন?
  • পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
  • আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
  • চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।
  • সোনালি সোনালি চিল- শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে-
  • কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে।
  • আমি যদি হতাম বনহংস;
    বনহংসী হতে যদি তুমি।

আমার বিশ্বাস, ‘বনলতা সেন’ বইয়ের প্রত্যেকটি কবিতা পাঠককে আমোদিত করবে। ভাবতে বাধ্য করবে। গভীর অনুভূতি লাভে সাহায্য করবে। তাই তো বহুল পঠিত বইটি যুগ যুগ ধরে পাঠকের অন্তরে বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন

বই আলোচনা / শেষ: মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগময় উপন্যাস

বই: বনলতা সেন
কবি: জীবনানন্দ দাশ
প্রকাশক: দূরবীণ
প্রচ্ছদ: আইয়ুব আল আমিন
মূল্য: ২০০ টাকা।

এসইউ