বন্দরে পাওনা টাকা চাওয়ায় সূতা ব্যবসায়ী আবদুল মোতালেব হোসেনকে (৫০) মারধর করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোতালেব হোসেন বন্দরের মুছাপুর মিনারবাড়ির মৃত আলফাজউদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় দেনাদার মহিউদ্দিনকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার মহিউদ্দিন বন্দরের উত্তর কুলচরিত্র গ্রামের মৃত আমজাদ আলী ছেলে।

এ ব্যাপারে নিহত মোতালেব হোসেনের ছেলে পিয়াল হাসান বাদী হয়ে মুছাপুর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার মেম্বার, তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলী ও দেনাদার মহিউদ্দিনকে আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেছেন। এদিকে আনোয়ার মেম্বার ও তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

নিহত মোতালেবের ছেলে মামলার বাদী পিয়াল হাসান জানান, প্রায় এক বছর আগে তার বাবা মোতালেব হোসেন সূতার ব্যবসা করার জন্য বন্দরের উত্তর কুলচরিত্র গ্রামের মহিউদ্দিনকে ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেন। তিন মাস ধরে মহিউদ্দিন ব্যবসার লভ্যাংশ দিতে তালবাহানা করে। অনেক দেন দরবার করেও মহিউদ্দিনের কাছ থেকে এ টাকা ফেরত পাননি। এ নিয়ে ১২ জুন মহিউদ্দিনের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে আনোয়ার মেম্বার বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেন। এরপর শুক্রবার মহিউদ্দিন ও আনোয়ার মেম্বারের সঙ্গে রাস্তায় দেখা হলে তার বাবা তাদের কাছে টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার মেম্বার ও তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলী তার বাবাকে মারধর করে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, মোতালেব হোসেন ও মহিউদ্দিন যৌথভাবে সূতার ব্যবসা করতেন। ব্যবসার সুবাদে মোতালেব হোসেন মহিউদ্দিনের কাছে টাকা পেতেন। টাকা আদায় নিয়ে ঝামেলা চলছিল। শুক্রবার মোতালেব হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মোতালেবকে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। দেনাদার মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।