বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে চীনা উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কারখানা অধিগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠন দুটির মধ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সভায় উভয় পক্ষের নেতারা বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন মূলধন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। সে কারণে যৌথ বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসে, চীনা বিনিয়োগকারীরা শুধু নতুন শিল্প স্থাপনেই নয়, প্রয়োজন হলে রুগ্ণ বা উৎপাদনহীন কারখানায় যৌথ মালিকানা কিংবা শতভাগ বিনিয়োগের মাধ্যমেও কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী। একইসঙ্গে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান জানানো হয়।

সভায় ব্যবসা পরিচালনার অন্যতম বাধা হিসেবে কাস্টমস, বন্ড ব্যবস্থাপনা এবং যন্ত্রপাতি খালাসে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এসব জটিলতা কমাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করা এবং শুল্ক-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান ওকাইবের প্রতিনিধিরা।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নেও গুরুত্ব আরোপ করা হয় বৈঠকে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি ব্যবহারে দুই পক্ষ একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সার্কুলার ফ্যাশন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগে চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ওকাইব বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং খাতে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নে পুরোনো জ্যাকর্ড মেশিনের পরিবর্তে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন সরবরাহে একটি ‘মেশিন এক্সচেঞ্জ’ কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে, কাস্টমস ও প্রশাসনিক জটিলতা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন চীনা প্রতিনিধিরা।

জবাবে বিজিএমইএ নেতারা জানান, এসব নিয়ন্ত্রন জটিলতা দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চীনা বিনিয়োগকারীদের সংযোগ স্থাপনে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজিএমইএর নেতারা বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পকে আরো শক্তিশালী করতে পারে।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা আরো বাড়ানো সম্ভব। 

তার অভিমত, দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ হলে শুধু বিনিয়োগই নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উৎপাদন দক্ষতাও বাড়বে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বাড়াবে।