পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তবে ছেলের এমন নৃশংস অপরাধ ও মৃত্যুর ঘটনায় বিন্দুমাত্র দুঃখিত নন তার পরিবার। এমনকি নিহত ছেলের মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনতে বা শেষবারের মতো দেখতেও রাজি হননি তার মা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপরাধের ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন) করতে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় যান পুলিশ কর্মকর্তারা। রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুলিবিদ্ধ হয়। গভীর রাতেই তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গ / পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শিশু ধর্ষণ-হত্যার মূল অভিযুক্ত
বুধবার সকালে নিহত প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল জানান, ‘দুজন পুলিশ সদস্য এসে জানতে চান প্রভাস আমার ছেলে কি না। আমি বলি, হ্যাঁ। তারপর পুলিশ বলে, আপনার ছেলে মারা গেছে, আপনি কি দেখতে চান? আমি বলেছি, আমি আর দেখতে চাই না। দেখে আর কী করব, আমার আর সেই শক্তি নেই।’
ছেলের মরদেহ বাড়িতে আনতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মরদেহ আনতে যাব না। আমরা ওকে আর দেখতেও চাই না। ওকে পুড়িয়ে দেবে, ফেলে দেবে, যা খুশি করুক।’
গত রোববার (৫ জুলাই) বারুইপুরের পুকুর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন ৬ থানা-ফাঁড়ি নির্মাণ করছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ
এছাড়া এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলারও অভিযোগ ওঠে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ রেল ও সড়ক অবরোধে নামেন। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হলে সেই ঘটনাতেও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে চরম উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ রেল ও সড়ক অবরোধ করে এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সরকার যা করার করছে। চারজনের মধ্যে তিনজনকে ধরা হয়েছে, বাকিজনকেও ধরা হবে। অপরাধীদের একজনকেও ছাড় দেওয়া হবে না।"
এদিকে, পুলিশের এই এনকাউন্টারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘বারুইপুর ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে এনকাউন্টার করে মারা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কী চলছে এসব? রাজ্যে আসলে কোনো সরকার নেই, এখানে এখন জঙ্গলের আইন চলছে।’
ডিডি/কেএএ/








