বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। বিশেষ করে বন্দর, সাপ্লাই চেইন ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে বিনিয়োগ ভবনে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় পিপিপিএ, বিডা ও বেজার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই অগ্রাধিকার সৌদি আরবের নিজস্ব অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সৌদি উপমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে উঠতে কাজ করছে এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে শীর্ষস্থানীয় সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে বিনিয়োগে সহায়তা করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের কার্যক্রমও উঠে আসে। সৌদি উপমন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কার্যক্রমে ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মী বাংলাদেশি। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহী আরএসজিটি।

বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে সৌদি পক্ষের বিনিয়োগ-আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা হয়। পারস্পরিকভাবে লাভজনক প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমান ইতিবাচক গতি কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।

পিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, আলোচনায় এমন কয়েকটি খাত উঠে এসেছে, যেখানে সৌদি পক্ষের গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং যা বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক—কোল্ড স্টোরেজ থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত—বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

আশিক চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশ আর্থিক সেবা খাতেও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতিমধ্যে একাধিক সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ চলছে, যাতে তারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।