মুহূর্তটা কিছুতেই ভোলার নয়। ভোলা যাবে না। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ডালাস মিক্সড জোন পেরিয়ে চলেই যাচ্ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ‘দিবু (মার্তিনেসের ডাকনাম), বাংলাদেশ থেকে এসেছি’—পেছন থেকে ডাক দিতেই থামলেন। ‘ওহ্, বাংলাদেশ, আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি’, বলতে বলতে ফিরে এলেন প্রতিবেদকের কাছে।

২০২২ বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক মার্তিনেসকে যখন বাংলাদেশের হাজারো আর্জেন্টিনা-সমর্থকের উদ্দেশে কিছু বলতে বলা হলো। মুখে হাসি ফুটিয়ে মার্তিনেস বললেন, ‘বাংলাদেশের দর্শকদের আমি ভালোবাসি। সেখানে আমি গিয়েছি (২০২৩ সালে)।’

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকেরা আবারও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে দেখতে চান—এ খবর দিতেই মার্তিনেসের মুখে চওড়া হাসি। আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি জানি, তাঁরা আমাদের জন্য কতটা পাগল। আমার সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এই সমর্থনকে অনেক ভালোবাসি। তাঁরা যে আন্তরিকতায় নিজেদের আর্জেন্টিনারই একজন মনে করে, সেটিই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। বাংলাদেশের প্রতি অনেক ভালোবাসা।’

ম্যাচের পর মিক্সড জোনে সাংবাদিক-অরণ্য পেরিয়ে খেলোয়াড় এবং দলের অন্য সদস্যরা হেঁটে বেরিয়ে যান টিম বাসের দিকে। যেতে যেতেই এক-আধটু কথা বলে যান খেলোয়াড়েরা। এর ফাঁকে চোখের পলকে পেরিয়ে গেলেন সবার কৌতূহলের কেন্দ্রে থাকা লিওনেল মেসি। সবার শেষে কথা বললেন মার্তিনেস। ‘বাংলাদেশ’ নামটা শুনে তিনি ফিরে এসে জানিয়ে গেলেন নিজের ভালোবাসা।

ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদু দেখার পর ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক সমর্থকের একটা আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর থেকে। এই শতাব্দীতে লিওনেল মেসি সেটি অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আর্জেন্টিনার জন্য বাংলাদেশ কতটা পাগল, সে খবর পুরো আর্জেন্টিনাই জানে। মেসিরা তো জানেনই। বাংলাদেশকে তাঁরা কতটা জানেন, সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্য মার্টিন লুইসকে। মিক্সড জোনে তিনি বললেন, ‘আমাদের প্রতি বাংলাদেশের ভালোবাসা, উন্মাদনা সাধারণত ইনস্টাগ্রামে, ফেসবুকের রিলসে প্রায়ই দেখতে পাই। মেসিও দেখে, জানে। আমরা সবাই জানি।’

মাঠের বাইরের দুই দেশের ফুটবলীয় প্রেমের গল্প বলতে গিয়ে ম্যাচের খবরই তো দেওয়া হলো না। টেলিভিশনে কিংবা ফোনের স্ক্রিনে দেখে ফেলা ম্যাচের প্রতিবেদন এক দিন না হয় কমই বলা গেল। আর বলতে গেলে ওই একজনের কথাই আসে সবার আগে। তাঁকে নিয়ে স্তুতি করতে ক্লান্তি আসতে পারে, কিন্তু মেসির গোল করতে ক্লান্তি নেই! জর্ডানের বিপক্ষে ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেও গোল পেয়েছেন আর্জেন্টিনা জাদুকর। বিশ্বকাপে তাঁর ষষ্ঠ গোলে আর্জেন্টিনা জর্ডানকে হারিয়েছে ৩-১ ব্যবধানে। ম্যাচের ৮০ তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে জাল কাঁপিয়ে টানা সপ্তম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন মেসি। আর এই গোলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মেসি।

গ্রুপসেরার স্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় কোচ লিওনেল স্কালোনি সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ জয়ের ম্যাচের একাদশ থেকে নয়টি পরিবর্তন আনেন। সে কারণে মেসিকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়। তবে এক ঘণ্টা পর মাঠে নেমেই তিনি নিজের স্বভাবসুলভ নৈপুণ্যে ম্যাচের সেরা মুহূর্তটা উপহার দেন। ১৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন সেলসো, ৩১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেস। জর্ডানের গোলটা করেন আলতামারি।

গ্রুপপর্ব শেষে মায়ামিতে শেষ ৩২ পর্বের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।