কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে চট্টগ্রামের বেশ কিছু অঞ্চল। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বাঁশখালী উপজেলা। এই উপজেলার অনেক ইউনিয়নে থই থই করছে বন্যার পানি। অনেকের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী হয়ে আছে স্থানীয় মানুষেরা। অধিকাংশ বাড়িতে রান্নাবান্না বন্ধ।

এ অবস্থায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। প্রথম ধাপে ১২ জুলাই বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের ৫০টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ উপহার দিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা। দ্বিতীয় ধাপে গতকাল সোমবার একই উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে আরও ৫০টি পরিবারের মধ্যে এই উপহার পৌঁছে দেন তাঁরা। প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহারসামগ্রীর মধ্যে ছিল মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, মোমবাতি, ওরস্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, নাপা, গুড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বন্যার্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ত্রাণ বিতরণ

স্থানীয় লোকজন জানান, এই এলাকাগুলোয় ত্রাণসামগ্রী খুব একটা পৌঁছায় না। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও সুপেয় নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে। বন্ধুসভার পক্ষ থেকে উপহার পেয়ে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এই পরিবারগুলো এখন এক কঠিন সময় পার করছে। মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।’

বাঁশখালী উপজেলার বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের বন্যার্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ত্রাণ বিতরণ

পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শান্ত বড়ুয়া বলেন, ‘এখানে না এলে কেউ বুঝতে পারবে না এখানকার মানুষ কয়েক দিন ধরে কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অনেকেই সম্মুখ অংশগুলোয় ত্রাণ দিয়ে চলে যাচ্ছে। দুর্গম অঞ্চলের মানুষ ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করেছি তাদের কাছে উপহার পৌঁছে দিতে।’

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি। ঘরে পানি ওঠায় মানবেতর জীবন যাপন করছে দুর্গত এলাকার মানুষেরা; অনেক পরিবারে টানা দু-তিন দিন ধরে চুলা পর্যন্ত জ্বলেনি। খাদ্যসংকটে পড়া এমন মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে চকরিয়া বন্ধুসভা।

চকরিয়া বন্ধুসভার বন্ধুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে বন্যার্তদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন

১১ জুলাই বিকেলে চকরিয়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তরছপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী জলদাসপাড়া এলাকায় ঘুরে ঘুরে পানিবন্দী ১০০ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন বন্ধুসভার বন্ধুরা। তাঁরা জানান, বন্যার কারণে যে পরিবারগুলোয় দু–তিন দিন ধরে রান্না হয়নি, মূলত তাদেরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামসহ পার্বত্য অঞ্চলে বন্যার খোঁজখবর নিতে স্থানীয় বন্ধুসভাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ। চট্টগ্রাম ও চকরিয়া বন্ধুসভার পাশাপাশি মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছে পটিয়া, নোবিপ্রবি, কক্সবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বন্ধুসভা। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রথম আলো বন্ধুসভার ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।