মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। গত কয়েক বছর ধরে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ থেকে মুক্তি চান পৌরসভা বাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়ে ১৪ বর্গ কিলোমিটারের মাদারীপুর পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পায়। গত কয়েক বছর আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তবে তা পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত না থাকায় শহরবাসীর ভোগান্তি কমেনি। তাই একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়াও অনেক নিচু এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। বছরের পর বছর এ অবস্থা থাকায় শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মাদারীপুরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজার সড়ক, উকিলপাড়া, পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পানিছত্র এলাকার শহীদ সূর্য সড়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরদার সড়ক, মাদারীপুর পৌরসভার পুরাণ বাজার, যাত্রার মাঠ, হামিদ আকন্দ সড়ক, ডা. অখিল বন্ধু সড়ক ও কুলপদ্বিসহ অনেক এলাকার সড়ক ও নিচু ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

মাদারীপুরে জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌরবাসী, স্থায়ী সমাধানের দাবি

তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায়, মাদারীপুর জেলার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজার সড়কে। একটু বৃষ্টি হলেই মার্কেটের ভেতর দিয়ে যে প্রধান সড়কটি গেছে তা হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ভরে যায়। অনেক সময় দোকানের ভিতরেও পানি ঢুকে যায়। এতে করে ব্যবসায়ীরাসহ যেকোনো কাজে পুরানবাজারে যেতে পৌরবাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মাদারীপুর শহরের বাসিন্দা মো. রেজাউল হক বলেন, ‘মাদারীপুরে উন্নত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ড্রেনের অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। তাই একটু বৃষ্টি হলেও হাঁটু পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। এমনকি বাসা-বাড়িতেও পানি জমে। তাই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাই।’

মাদারীপুরে জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌরবাসী, স্থায়ী সমাধানের দাবি

নাম না প্রকাশে কয়েকজন পৌরবাসী জানান, কর, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ, রাজস্বসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে পৌর কর্তৃপক্ষ। অথচ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা, যত্রতত্র পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা, ড্রেনে ময়লা ফেলাসহ নানা কারণেই বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষসহ পৌরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। তা না হলে এর ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করবে।

মাদারীপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার আবু আহমেদ ফিরোজ ইলিয়াস বলেন, ‘শহরের যে ড্রেনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, তা নিচু হওয়ায় পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হতে পারে না। নানা কারণে অনেক জায়গায় পানি বের হবার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। তাই শহরে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিলেই পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেখান থেকে পানি নামানোর ব্যবস্থা করে দেয়। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/কেজে/এএসএম