জোগো বোনিতোর ছন্দে বিশ্বকাপের ক্যানভাস হলুদ হওয়ার দিনে প্রচারের আলোর বাইরে থাকা তিনটি দেশ ভেসেছে অনন্য প্রথমের উচ্ছ্বাসে। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম নকআউট পর্বে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, সহআয়োজক কানাডা ও বসনিয়া। আগেই শেষ বত্রিশের টিকিট কাটা আরেক সহআয়োজক মেক্সিকো তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার তিন ম্যাচের সবকটি জিতে শেষ করল গ্রুপপর্ব। আগামী রোববার লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথমবার নকআউটে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শেষ বত্রিশের লড়াই।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস

এ-গ্রুপ থেকে নকআউটে মেক্সিকোর সঙ্গী হয়ে সবচেয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার সকালে মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ফেভারিট দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে বাফানা বাফানারা। এবারে আগে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপপর্ব পার হতে পারেনি তারা। এবারও শেষ ম্যাচে চমক দেখাতে না পারলে একই পরিণতি হতো। অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ড্র করতে পারলেই নকআউটে চলে যেত দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু এশিয়ার বাঘরা এদিন কাগুজে বাঘ হয়ে ছিল। ৬৩ মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া একমাত্র গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো। শেষ বাঁশি বাজার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলাররা যখন ইতিহাস গড়ার আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের মুখে তখন রাজ্যের অন্ধকার। তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য এখনো ছিটকে যায়নি। সেরা আট তৃতীয় দলের মধ্যে থাকতে পারলে তারা নকআউটে খেলার সুযোগ পাবে।

মেক্সিকোর তিনে তিন

মেক্সিকো সিটিতে একই সময়ে হওয়া গ্রুপের অপর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিকরা তুলে নেয় টানা তৃতীয় জয়। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের কোনো স্বাগতিক দেশ গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই জিতল। মাতেও চাভেজ, হুলিয়ান কিনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে নিশ্চিত হয় চেক প্রজাতন্ত্রের বিদায়। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে বদলি হিসাবে এদিন প্রথম মাঠে নামেন মেক্সিকোর ৪০ বছর বয়সি গোলকিপার ওচোয়া।

হেরেও হাসি কানাডার

ভ্যাঙ্কুভারে স্বাগতিক কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে বি-গ্রুপের শীর্ষ দল হিসাবে নকআউটে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। হেরেও চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসাবে প্রথমবার শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় কানাডা। রুবেন ভারগাস ও ইয়োহান মানজাম্বি সুইসদের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেওয়ার পর কানাডার একমাত্র গোলটি করেন প্রমিজ ডেভিড।

তৃতীয় হয়েও নকআউটে বসনিয়া

সিয়াটলে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল বসনিয়াকে। কানাডার সমান চার পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপে তৃতীয় হয় বলকান অঞ্চলের দেশটি। তবে আলাইবেগোভিচ ও মাহমিচের গোল শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফিফা নিশ্চিত করে, সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হিসাবে প্রথমবার নকআউটে খেলবে বসনিয়া।